মনে করিতেন। কিন্তু পাতিব্রত্য ধর্ম্মসাধনে তাঁহার বাহ্যাড়ম্বরের কোন পরিচয় পাই নাই। বরং ‘ধর্মস্য তত্ত্বং নিহিতং গুহারাং মহাজনের যেন গতঃ স পন্থাঃ’ এই ভাবেরই পরিচয় প্রাপ্ত হওয়া যায়। ফলতঃ ঠাকুরদাস ও ভগবতী দেবীর হৃদয়ে দাম্পত্য প্রো যে কালের আবর্ত্তনে পরিপক্কতা প্রাপ্ত হইয়া স্নেহরসে পরিণত হইয়াছিল, পরস্পরকে প্রীতিসম্পন্ন করিয়াকারণ পরস্পর প্রীতিসম্পন্ন ছিল, তাহাতে অণুমাত্র সন্দেহ নাই। দম্পতীই সর্ব্বত্তোভাবে অভিন্নহৃদয় হইয়া থাকিতে ইচ্ছা করে। কিন্তু ইহলোকে সম্পূর্ণ অভিন্নহৃদয়তা সাধিত হইয়া উঠে না। যেহেতু ভাবাগমের পন্থা বিভিন্নতা হইতেই মানুষ মধ্যে এতাদৃশ মতান্তর দৃষ্ট হইয়া থাকে। একজন রূপ, আয়তন, প্রভৃতি বাহ্য গুণসম্পাতের নির্ণয় দ্বারা বস্তু সমূহকে শ্রেণীবদ্ধ করেন; অন্যজন স্বভাব-সাদৃশ্য বা আভ্যন্তরীণ পদার্থ সমূহের জাতি প্রকৃতি নির্দ্দেশ কার্য্য কারণ সম্বন্ধ নির্ণয় করিয়া করিয়া থাকেন। বুদ্ধি, কিন্তু নিয়তই কারণোন্মুখী, সর্বত্রই তাহাকে পরিস্ফুট ও নিরবচ্ছিন্ন দেখিতে অভিলিপ্সু, সুতরাং বহির্বৈলক্ষণ্য সতত তাহার দৃষ্টিগোচর হয় না। ঋষি, কবি, দার্শনিক প্রভৃতি মনীষিগণের নয়নে সকল বস্তুই মঙ্গলময় ও পুণ্যময়, সর্ব্বকর্ম্ম ও ঘটনা হিতকর এবং মানব মাত্রই দেবগুণসম্পন্ন। কারণ তাঁহাদের চক্ষুঃ সতত জীবনোপরি দৃঢ় আসক্ত, অনুষঙ্গের কোনও লক্ষ্য রাখে না। আবার প্রণয়ের স্বধর্ম্ম বিষয়াবলি সমীপবর্ত্তী হইলেই, স্বকীয় বিশুদ্ধ বহ্নিতে, তাহাদিগকে পরিশুদ্ধ করিয়া লইতে চেষ্টা করে। সুতরাং দম্পতী জীবনে পরস্পরের মধ্যে সম্যক্ অভিন্নহৃদয়তা সাধিত হইয়া না উঠিলেই, অভিমান ও উদ্বেগের উদয় হইয়া কলহের সূত্রপাত করে। অন্য বিবাদস্থলে মৌনাব
পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/১২২
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১০৮
ভগবতীদেবী।