লম্বনই শ্রেয়ঃ, কিন্তু দম্পতী কলহে মৌনাবলম্বন সৎপরামর্শ নহে। তাহাতে কলহাগ্নি প্রজ্বলিত হইয়া উঠে, অথবা বহির্দেশে নির্ব্বাণ প্রাপ্ত হইয়া অন্তরে প্রবেশ পূর্ব্বক চিত্তভূমি দগ্ধ করিয়া ফেলে। যুদ্ধক্ষেত্রে স্থির থাকিয়া সম্মুখ সংগ্রাম করাই এখানকার বিধি। ঠাকুরদাস বীরপুরুষের ন্যায় সন্মুখ সংগ্রামেই অগ্রসর হইতেন।
ভগবতী দেবীর জ্যেষ্ঠা কন্যার বিবাহকাল উপস্থিত হইলে, ঠাকুরদাস বলিলেন, “সংকুলীন সন্তানকে কন্যাসম্প্রদান করিব।” ভগবতী দেবী বলিলেন, “বড় ঘরে মেয়েকে বিবাহ দিতে হইবে। আমার মেয়ে যেরূপ শিক্ষাপ্রাপ্ত হইয়াছে, তাহাতে যদি বড় ঘরে বিবাহ হয়, তাহা হইলে এ মেয়ে স্বামীর দ্বারা জগতের অনেক মঙ্গলকার্য্য করিতে পারিবে।” এইরূপ মতান্তর হইতে কথান্তর উপস্থিত হয়। দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ঠাকুরদাস ভগবতী দেবীকে সুস্পষ্টরূপে বুঝাইয়া বলিলেন, “দেখ, ধনবানের পুত্র হইলেই যে, সে পরোপকার ও সদাব্রতে নিরত থাকিবে এরূপ মনে করিও না। সদনুষ্ঠানের মূলে সৎপ্রবৃত্তি থাকা চাই। সদ্বংশে জন্মগ্রহণ করিলে প্রায়ই সৎ হয়। সুতরাং তাহার সৎ প্রবৃত্তি থাকাই সম্ভব। সংপ্রবৃত্তি যদি থাকে, তাহা হইলে সে ধনবান না হইলেও সদনুষ্ঠানে সতত যত্নবান হইবে।” পরিশেষে ভগবতী দেবী ঠাকুরদাসেরই ছন্দানুবর্ত্তিনী হন। সদ্বংশে কন্যাসম্প্রদান করা হয়। অতঃপর ঠাকুরদাস ভগবতী দেবীকে ‘মনসা’ বলিয়া ডাকিতেন।
প্রবল ঝটিকার পরেই প্রকৃতি শান্তভাব ধারণ করে, কার্য্যের পরই বিরামের স্বভাবতঃ উদয় হয়, এবং বিপ্লবের পরেই শান্তি ও জ্ঞান মনুষ্যসমাজে দৃঢ়তর অধিকার স্থাপন করে। সেইরূপ দম্পতী কলহেরও