বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/১২৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১১০
ভগবতীদেবী।

চরম ফলটী অতীব মধুর। সুবোধ দান্তস্বভাব পুরুষের কার্য্য যাহাতে ঐ চরম ফলটী শীঘ্র ফলে, তাহার নিমিত্ত যত্ন করেন। অন্যান্য পারিবারিক বিষয় লইয়াও মধ্যে মধ্যে ঠাকুরদাস ও ভগবতী দেবীর মধ্যে মতান্তর উপস্থিত হইয়া কলহে পরিণত হইত। সময়ে সময়ে কাল বৈশাখীর ন্যায় মেঘ, জল, প্রবল বাত্যা বহিয়া যাইত। ভগবতী দেবী ক্রোধাগারের দ্বার বন্ধ করিয়া শয়ন করিয়া থাকিতেন। ঠাকুরদাস জানিতেন, ভগবতী বৃহৎ মৎস্য অতিশয় ভালবাসেন। তিনি তখন মৎস্য অন্বেষণে বাহির হইতেন এবং যেখানে পাইতেন একটী বৃহৎ মৎস্য আনয়ন করিয়া ক্রোধাগারের দ্বারদেশে সজোরে নিক্ষেপ করিতেন। মৎস্য পতনের শব্দ শ্রবণমাত্র ভগবতী দেবী দ্বার উন্মোচন করিতেন এবং আস্যে হাস্য ও অপাঙ্গে অশ্রু লইয়া বাহির হইতেন। ছাই ও বঁটি লইয়া মাছ কুটিতে বসিতেন। এইরূপে মধুর মিলন হইত।

 এইরূপ পারিবারিক সুখস্বচ্ছন্দে অনেক কাল অতিবাহিত হইল। শেষে একদিন রজনীতে ঠাকুরদাস স্বপ্নে দেখিলেন, বীরসিংহ বাস্তুভিটা শ্মশানে পরিণত হইয়াছে। সংসারে ঘোর বিশৃঙ্খল উপস্থিত হইয়াছে। এইরূপ স্বপ্ন দেখিলে পর ঠাকুরদাসের অতিশয় মানসিক অশান্তি উপস্থিত হইল। তিনি বীরসিংহ পরিত্যাগ করিয়া তীর্থবাস করিবেন স্থিরসঙ্কল্প করিলেন। সকলে তাঁহাকে বিশেষরূপে বুঝাইতে লাগিল, কিন্তু কিছুতেই তাঁহার মন প্রবোধ মানিল না। পরিশেষে তিনি কাশীধামে যাত্রা করিলেন। ভগবতী দেবী সংসারসাধন, দরিদ্রপালন ও সেবাধর্ম্মানুষ্ঠানের জন্য বীরসিংহে অবস্থিতি করিতে লাগিলেন। ঠাকুরদাসের কাশীবাসের সঙ্গে সঙ্গেই সংসারে ঘোর বিশৃঙ্খলা উপস্থিত হয়। ভগবতী