থাকি, এবং এই সকল আর্য্যরমণী নারীজাতির আদর্শভূতা ও স্বর্গস্থ দেবীসমাজের বরণীয়া বলিয়া গৌরবান্বিত হই, কিন্তু দরিদ্রের পর্ণকুটীরে প্রতিভার যে উন্মেষ, সে বিষয়ের পর্য্যালোচনায় আমরা সম্পূর্ণ উদাসীন। সেইজন্য মনে হয়, দরিদ্রের পর্ণকুটীরে প্রতিভার যে বিকাশ, তাহা বনজাত সুরভিকুসুম, সুগন্ধি গিরিশৈবাল ও অরণ্যসুলভ পরিমলপূর্ণ কস্তূরীর স্বকীয় গুণগৌরবের ন্যায় স্বস্থানেই স্বতঃ প্রকাশিত থাকে, জগৎ তাহার অনুসন্ধান করে না! ঊনবিংশ শতাব্দী বিধাতার কি শুভ আশীর্ব্বাদ শিরোধার্য্য করিয়া অবনীমণ্ডলে আবির্ভূত হইয়াছিল, তাহা বুধগণই বলিতে পারেন। কারণ, এই শতাব্দীতে জ্ঞানের উজ্জ্বল আলোকে এবং ধর্ম্মের বিমল ও পবিত্র জ্যোতিতে বসুন্ধরা উদ্ভাসিত হইয়াছিল। এই শতাব্দীরই প্রথমার্দ্ধে কর্ম্মবীর ফ্রাঙ্কলিন, ওয়াসিংটন, ম্যাট্সিনি, গ্যারিবল্ডি, উইলবারফোর্স; ধর্ম্মবীর লিনকন ও থিওডোর পার্কার প্রভৃতির জননীগণ এবং সেবাব্রতধারিণী ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল, ভগিনী ডোরা, গ্রেস ডার্লিং, মেরি কার্পেণ্টার ও কুমারী কব্ প্রভৃতি মহিলাগণ পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন অংশে জন্মগ্রহণ করেন। সেই সময়ে সুজলা সুফলা শস্যশ্যামলা এই বঙ্গভূমির কোনও দরিদ্র ব্রাহ্মণের পর্ণকুটীরে এক নারীরত্ন জন্মপরিগ্রহ করিয়া ছিলেন। ইনিই আমাদের পুণ্যশ্লোক বিদ্যাসাগর মহাশয়ের জননী সাক্ষাৎ অন্নপূর্ণা ভগবতী দেবী।
এই বিশ্বের কি বিচিত্র বিধান! যে বংশে কোন মহাপুরুষ বা নারীরত্ন জন্মগ্রহণ করেন, পূর্ব্ব হইতেই সেই বংশ ঈশ্বরানুগৃহীত হইয়া থাকে। ভগবতী দেবী সম্বন্ধেও আমরা এই অশেষ কল্যাণকর নিয়মের অনুক্রম দেখিতে পাই। তাঁহার পিতামহ, একজন সত্যসন্ধ, ধর্ম্মনিষ্ঠ, সাত্ত্বিক