সর্ব্বাপেক্ষা প্রধান কর্ম্ম। তিনি কুমারগঞ্জের হাটে যাইয়া দ্রব্যাদি ক্রয় করিয়া আনিতেন। ছাত্র সকলকে এবং পুত্র, পৌত্র, দৌহিত্রদিগকে একত্র বসাইয়া আহার করাইতেন। ভগবতী দেবী সন্তুষ্টচিত্তে স্বয়ং রন্ধন পরিবেশনাদি কার্য্য প্রতিদিন সমভাবে নির্ব্বাহ করিতেন।
বিদ্যাসাগর মহাশয়ের যখন ৫০০৲ টাকা বেতন হয়, তখন তিনি এক সময়ে কার্য্যোপলক্ষে দেশে আগমন করিয়া মাতাকে জিজ্ঞাসা করেন, “মা, আর তোমার মনে কি সাধ আছে আমায় বল।” ভগবতী দেবী বলিলেন, “বাবা, এইবার যেখানে যত দুঃস্থ আত্মীয় স্বজন আছেন, তাঁহাদের একটা মাসহরার ব্যবস্থা করিয়া দাও।” বিদ্যাসাগর মহাশয় মাতার অভিলাষানুযায়ী আত্মীয় স্বজনের মধ্যে যাঁহাদের হীন অবস্থা ছিল, এমন কি সংসারযাত্রা নির্ব্বাহ করা সুকঠিন হইয়া উঠিয়াছিল, তাঁহাদের পরিবার সংখ্যানুযায়ী মাসিক বৃত্তির ব্যবস্থা করিয়া দিয়াছিলেন।
৭৩ সালের দুর্ভিক্ষ সময়ে যে সকল লোক অন্নসত্রে ভোজন করিয়া ছিল, তাহারা অতঃপর কি উপায় অবলম্বন করিয়া দিনপাত করিয়া থাকে, বিদ্যাসাগর মহাশয় গ্রামস্থ ঐ সকল দরিদ্র লোকের অবস্থা অবগত হইবার জন্য ব্যগ্র হইলেন। এবং অনুসন্ধানে অবগত হইলেন যে, উহাদের মধ্যে অনেকেই অতি কষ্টে এক সন্ধ্যা ভোজন করিয়া থাকে। ইহা শ্রবণ করিয়া বিদ্যাসাগর মহাশয় ভগবতী দেবীকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “বৎসরের মধ্যে এক দিন জগদ্ধাত্রী পূজা করিয়া ৬|৭ শত টাকা ব্যয় করা ভাল, কি গ্রামের নিরুপায় অনাথ লোকদিগকে এই অর্থ দ্বারা অবস্থানুসারে মাসে মাসে কিছু কিছু সাহায্য করা ভাল?” এই কথা শ্রবণ করিয়া ভগবতী দেবী উত্তর করিলেন, “গ্রামের দরিদ্র নিরুপায় লোক প্রত্যহ খাইতে