বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/১৩২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১১৮
ভগবতীদেবী।

পাইলে, পূজা করিবার আবশ্যক নাই। তুমি গ্রামবাসীদিগকে মাসে মাসে কিছু কিছু দিলে, আমি পরম আহ্লাদিত হইব”। জননীর মুখে এরূপ কথা শুনিয়া, বিদ্যাসাগর মহাশয় অপরিসীম হর্ষ প্রাপ্ত হন এবং গ্রামের প্রধান প্রধান লোকদিগকে একত্র করিয়া বলিলেন যে, “তোমরা সকলে ঐক্য হইয়া, গ্রামের কোন্ কোন্ ব্যক্তির অত্যন্ত অন্নকষ্ট ও কোন্ কোন্ ব্যক্তি নিরাশ্রয়, তাহাদের নাম লিখিয়া দাও, আমি মাসে মাসে উহাদের কিছু কিছু সাহায্য করিব।” গ্রামস্থ ভদ্রলোকেরা যে তালিকা প্রস্তুত করিয়াছিলেন, সেই তালিকা বিদ্যাসাগর মহাশয় স্বহস্তে লিখিয়া মধ্যম ভ্রাতা শম্ভুচন্দ্রের নিকট প্রদান করিয়া বলিলেন, “তুমি পূর্ব্বাবধি যেরূপ নিরুপায় আত্মীয়দিগকে ও বিধবা বিবাহ সম্পর্কীয় নিরুপায় ব্যক্তিদিগকে তালিকানুযায়ী টাকা বিতরণ করিয়া আসিতেছ, সেইরূপ এই তালিকানুসারে গ্রামস্থ নিরুপায় ব্যক্তিদিগকে মাসে মাসে টাকা দিবে এবং সময়ে সময়ে গ্রামস্থ ব্যক্তিদিগের অবস্থার বিষয় বিশেষরূপে আমায় লিখিবে।” যিনি ধনশালী ব্যক্তি নহেন, তাঁহার পক্ষে এরূপ দান সহজ ব্যাপার নহে। ধন্য মাতা! ধন্য পুত্র!