বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/১৩৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
লোকানুরাগ ও সেবাধর্ম্ম।
১২১

পারিতেন না। তাহার গণ্ডস্থল বহিয়া প্রবল বেগে অশ্রুধারা নিপতিত হইত। এ দৃশ্য কি মধুর! কি হৃদয়স্পর্শী! ভগবতী দেবী একদিন ঠাকুরদাসকে যে বলিয়াছিলেন, “সেই আমার কাশী, সেইখানেই আমার বিশ্বেশ্বর।” *[] পাঠকগণ, চক্ষু থাকে নিরীক্ষণ করুন, হৃদয় থাকে অনুভব করুন, ক্ষুদ্র বীরসিংহপল্লী সত্য সত্যই আজ কাশীধামে পরিণত হইয়াছে কি না? কাশীধামের অন্নদাত্রী অন্নপূর্ণা দেবীর মূর্তিমতী প্রতিকৃতি আপনাদের সম্মুখে উপস্থিত কি না! শুদ্ধ অন্নদান করিয়াই মাতা আজ ক্ষান্ত নহেন। পাঠকগণ, ঐ দেখুন সন্তানগণের রুক্ষ কেশপাশ দেখিয়া মাতা কিরূপ মর্মপীড়িত হইয়াছেন! দরিদ্রগণের ভোজনান্তে ভগবতী তিন কন্যা সমভিব্যাহারে তাহাদিগের মধ্যে সমুপস্থিত হইয়াছেন। মাতার স্নেহের উৎস আজ উদ্বেলিত—উচ্ছলিত। প্রেমের প্রবল বন্যা অপ্রতিহত গতিতে প্রবাহিত। সেই প্রবল প্রবাহে আজ হাড়ি, ডোম, তিওর, বাগ্দী জাতিবিচার ভাসিয়া গিয়াছে। ঐ দেখুন, কন্যাগণ নারিকেল তৈল ও বাটা হলুদ স্ত্রীলোকদিগকে মাথাইয়া দিতেছেন, আর ভগবতী দেবী সধবাদিগের ললাটে স্বয়ং সিন্দুরবিন্দু পরাইয়া দিতেছেন! ধন্য পুণ্যের লীলাক্ষেত্র ভারতভূমি! এ দৃশ্য মর্ত্ত্যভূমির? না—সুরধামের!

 হিন্দু পেট্‌রিয়টের সংবাদদাতা ১২৭৩ সালের ১৫ই শ্রাবণ এই হৃদয়স্পর্শী সেবাব্রত সম্বন্ধে লিখিয়াছেন:— “বীরসিংহ গ্রামে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের মাতা প্রত্যহ ৪/৫ শত লোককে অকাতরে, অকুণ্ঠিতচিত্তে অন্নদান করিতেছেন।”

 ক্রমে দুর্ভিক্ষপীড়িত জনগণের সংখ্যা বৃদ্ধি পাইতে লাগিল। তখন এই


  1. * ৼশম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ব প্রণীত বিদ্যাসাগর চরিত।