নবম পরিচ্ছেদ।
ধৈর্য্য ও সৎসাহস।
জন্মগ্রহণ করিলেই মনুষ্যকে বিপদ, কষ্ট, অভাব, যন্ত্রণা ও হানি সহা করিতে হয়। অতএব সাহস ও ধৈর্য্য দ্বারা চিত্তকে দৃঢ়ীভূত করা মানবমাত্ররই অবশ্যকর্তব্য। কারণ, তাহা হইলে দুঃখের অংশ বহন করা সহজসাধ্য হইয়া উঠে। মরুভূমির মধ্যে উষ্ট্র যেমন শ্রম, তাপ, ক্ষুধা ও পিপাসা সহ্য করে, কাতর হয় না; ধৈর্য্যশালী ব্যক্তিও সেইরূপ বিষাদ এবং কষ্টে পতিত হইয়াও সৎসাহসেরই পরিচয় প্রদান করিয়া থাকেন। উন্নতমনা, ওজস্বী ব্যক্তি অদৃষ্টের প্রতিকূলতাকে অবজ্ঞা করেন; তাঁহার মনোমাহাত্ম্য কিছুতেই খর্ব্ব হইবার নহে। তিনি সাগর-শৈলের ন্যায় সংসার-জলধির বক্ষে অবস্থিতি করেন; বিপদরূপ তরঙ্গের আঘাতে তাঁহাকে বিচলিত করিতে পারে না। বিপদের সময় সাহস তাঁহার অন্তঃকরণে বলের সঞ্চার করে এবং তাহার চিত্তস্থৈর্য্য তাঁহাকে বহন করিয়া তাঁহার উদ্ধার সাধন করে। রণোন্মুখ সৈনিকের ন্যায় তিনি বিপদের সম্মুখীন হন, এবং হস্তে বিজয়লাভ করিয়া প্রত্যাগমন করেন।
বিদ্যাসাগর মহাশয় যখন সংস্কৃত কলেজের প্রিন্সিপাল্ এবং তাঁহার পুস্তকের দ্বারা অর্থাগমের যথেষ্ট সুবিধা হইয়াছিল, তখন তিনি দেশে আগমন করিলে, বীরসিংহ ও নিকটবর্ত্তী গ্রামের দীন দরিদ্র অবস্থাহীন