ব্যক্তিবর্গকে আপনার সাধ্যমত অর্থ সাহায্য করিতেন। সন্ধ্যার পর তিনি চাদরে টাকা বাঁধিয়া, লোকের গৃহে গৃহে যাইয়া গোপনে অর্থ সাহায্য করিয়া আসিতেন। এইরূপ গোপনে অর্থ সাহায্য করিবার কারণ এই যে, এই সকল লোক অবস্থাহীন বটে, কিন্তু ভদ্রপরিবার ভুক্ত, সুতরাং প্রকাশ্যে অর্থ সাহায্যের প্রার্থনা করা নিশ্চিত তাহাদের পক্ষে ঘোরতর লজ্জাজনক বিষয়।
বিদ্যাসাগর মহাশয় ১২৫৯ সালের গ্রীষ্মাবকাশে কলিকাতা হইতে যাত্রা করিয়া পদব্রজে ৬ ক্রোশ অন্তর চণ্ডীতলা গ্রামের এক পান্থ নিবাসে রাত্রি যাপন পূর্ব্বক পরদিবস পদব্রজেই তথা হইতে ২০ ক্রোশ অন্তর বীরসিংহে নিজ বাটীতে উপস্থিত হইলেন। তদনন্তর পিতামাতা, ভ্রাতা ভগিনী ও প্রতিবেশী বন্ধুবর্গের সহিত সাক্ষাৎ করিলেন।
পরদিবস হইতে গ্রামস্থ নিরুপায়দিগকে যথাসাধ্য কিছু কিছু অর্থ সাহায্য করিতে লাগিলেন। ইহা দেখিয়া গ্রামের ও পার্শ্ববর্তী গ্রামের অনেকে ইহাকে ধনশালী বলিয়া স্থির করিলেন। বোধ হয়, এই কারণেই গ্রামস্থ ব্যক্তিদিগের যোগে ৩০ বৈশাখ বীরসিংহের বাটীতে ডাকাইতি হয়। ঐ দিবস সকলে রাত্রি নয়টার পর ভোজনান্তে অন্তঃপুরে শরন করিয়াছিলেন,বহির্বাটীতে প্রায় ৩০জন পুরুষ নিদ্রা যাইতেছিলেন, এতদ্ব্যতীত দুইজন গ্রাম্য চৌকিদারও জাগরিত ছিল। নিশীথ সময়ে বাটীর সম্মুখে প্রায় ৪০ জন লোক ভয়ানক চীৎকার, করিয়া উঠিল। এই চীৎকারধ্বনি শ্রবণে সকলেরই নিদ্রাভঙ্গ হইল। তখন দস্যুগণ মশাল জ্বালিয়া মধ্যদ্বার ভাঙ্গিতেছিল, তদ্দর্শনে বিদ্যাসাগর অত্যন্ত ভীত হইলেন। সকলে অলক্ষিত ভাবে খিড়কির দ্বার দিয়া তাঁহাকে লইয়া বাটী হইতে প্রস্থান