বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/১৪২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১২৮
ভগবতীদেবী।

করিলেন। দস্যুগণ বিদ্যাসাগরকে ধরিতে পারিলে, টাকার জন্য বিলক্ষণ যাতনা দিত। দস্যুরা জ্বলন্ত মশাল ও উন্মুক্ত তরবারি হস্তে চতুর্দিকে বিচরণ করিতে লাগিল। এমন সময়ে ভগবতী দেবী সুযোগ বুঝিয়া উপরে চলিয়া গেলেন। সেই বৎসর ঈশান বাবুর বিবাহের বৎসর। বিবাহের জন্য অলঙ্কারাদি প্রস্তুত হইয়াছিল। ভগবতী দেবী সেই গহনার বাক্স লইয়া যখন নিম্নে অবতরণ করেন, তখন এমনি ঘটিল যে এক প্রবল বাতাসে দস্যুগণের সমস্ত মশাল নির্ব্বাণ প্রাপ্ত হইল। ভগবতী তখন অন্ধকারে নিম্নে অবতরণ করিলেন এবং কৌশল পূর্ব্বক থিড়কীর দ্বার দিয়া গহনার বাক্স লইয়া পলায়ন করিলেন। অনন্তর দস্যুগণ যথাসর্ব্বস্ব লুণ্ঠন করিয়া প্রস্থান করিল। রাত্রিতেই ঘাটাল থানার দারোগার নিকট সংবাদ প্রেরিত হইল। তিনি পরদিন প্রাতে বীরসিংহে আগমন করিয়া পুলিশ কর্মচারিদের প্রথানুসারে গোলমাল করায়, ঠাকুরদাস বলিলেন, “আপনি কুলীন ব্রাহ্মণের ছেলে বলিয়া আপনার মর্য্যাদা রাখিতে পারি,কিন্তু এসম্বন্ধে আপনাকে কিছু দিতে পারি না।” অনন্তর ঠাকুরদাস, পরিবারবর্গের কাহারও দ্বিতীয় বস্ত্র ও ঘটী, বাটী, থালা ইত্যাদি কিছুমাত্র না থাকায় এই সকল দ্রব্য ক্রয় করিবার জন্য উদয়গঞ্জ ও খড়ার গ্রামে গমন করিলেন। ইত্যবসরে বিদ্যাসাগর মহাশয় বাটীর সম্মুখে ভ্রাতা ও বন্ধুবর্গ লইয়া কপাটী খেলা আরম্ভ করিলেন। দারোগা বাবু ফাঁড়িদারকে বলিলেন, “এ বামুনের (ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের) এত কি জোর যে, আমি দারোগা, আমার মুখের উপর জবাব দেয় যে একপয়সাও দিব না। এবং ইহাও অতি আশ্চর্য্যের বিষয় যে, এই ছোঁড়াটা কি রকমের লোক? কল্য ডাকাইতি হইয়াছে,