প্রতি প্রীতি প্রদর্শন করিতে সমর্থ হয় না, সে পরম পিতার দয়া, ক্ষমা ও স্নেহ কি প্রকারে আশা করিতে পারে?
প্রিয় বাক্যেই জগৎ তুষ্ট হয়। যাঁহার রসনায় অমৃত আছে, সংসার তাঁহার নিকট অমৃতময়। তিনি ইহ জগতে থাকিয়াও স্বর্গসুখ উপভোগ করিতে পারেন। প্রিয়বাদীর কেহ পর নহে। শিষ্টাচারে পরও আপন হয়, শত্রুও মিত্র হয়। বিনয়, সৌজন্য ও সর্ব্ববিষয়ে উদারতা প্রকাশ করা সকলেরই কর্ত্তব্য। চিত্ত উদার হইলে, বসুধাবাসি জীবগণ আত্মীয়স্থানীয় হয়। সংসারে কেহ কাহারও শত্রু বা মিত্র হইয়া জন্ম গ্রহণ করে না; ব্যবহারেই শত্রু বা মিত্রের পরিচয় পাওয়া যায়। যিনি সর্ব্বজীবে আত্মবৎ ভাবিতে পারেন, তিনিই সাধু; আত্মপ্রাণ যেমন অভীষ্ট, পরের প্রাণও তদ্রূপ, ইহা বিবেচনা করিয়া যিনি আত্ম তুলনায়, অপরের সহিত সদ্ব্যবহার করিতে শিক্ষা করিয়াছেন, তিনিই মানবনামের যোগ্য।
১২৬১ সালে বা ১৮৬৮ খৃষ্টাব্দে হারিসন্ সাহেব ইনকম্ট্যাক্সের তদন্তের জন্য কমিশনর নিযুক্ত হন। বিদ্যাসাগর মহাশয় একদিন হারিসন সাহেবকে বীরসিংহের বাটীতে লইয়া যাইবার জন্য নিমন্ত্রণ করেন। হারিস সাহেব বলেন,— “হিন্দু প্রথানুসারে বাটীর কর্তা বা কর্ত্রী নিমন্ত্রণ না করিলে, নিমন্ত্রণ গ্রহণ করিব না।” সুতরাং হারিসন্ সাহেবের কথানুযায়ী বিদ্যাসাগরের জননী ভগবতী দেবী সাহেবকে নিমন্ত্রণ করিয়া পাঠাইলেন। সাহেব বীরসিংহ গ্রামে আগমন করিয়া হিন্দু প্রথাহুসারে দণ্ডবৎ হইয়া, বিদ্যাসাগর মহাশয়ের জননীকে প্রণাম করিলেন। তিনি হিন্দু প্রথানুযায়ী যোগাসনে বসিয়া আহারাদি সমাপন করিয়া