বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/১৪৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
সৌজন্য ও সদ্ব্যবহার।
১৩৩

ছিলেন। ভগবতী দেবী সাহেবের ভোজন সময়ে উপস্থিত থাকিয়া তাঁহাকে ভোজন করাইয়াছিলেন। সাহেব তাঁহার সদ্ব্যবহারে আশ্চর্য্যান্বিত হইয়াছিলেন। অতি বৃদ্ধা হিন্দু স্ত্রীলোক, সাহেবের ভোজনের সময় চেয়ারে উপবিষ্টা হইয়া কথাবার্তা কহিতে প্রবৃত্ত হইলেন দেথিয়া উপস্থিত সকলে ও সাহেব পরম সন্তুষ্ট হইয়াছিলেন। ভগবতী দেবী প্রবীণা হিন্দু স্ত্রীলোক, তথাপি তাঁহার স্বভাব অতি উদার, মন অতিশয় উন্নত, এবং মনে কিছুমাত্র কুসংস্কার নাই। কি ধনশালী, কি দরিদ্র, কি বিদ্বান্, কি মূর্খ, কি উচ্চ জাতীয়, কি নীচ জাতীয়, কি পুরুষ, কি স্ত্রী, কি হিন্দুধর্ম্মাবলম্বী, কি অন্য ধর্ম্মাবলম্বী সকলেরই প্রতি সমদৃষ্টি; ইহা জানিতে পারিয়া সকলেই চমৎকৃত হইলেন এবং পরম সন্তোষ লাভ করিলেন।

 ভোজনান্তে হারিসন্ সাহেব ভগবতী দেবীকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “আপনার কত ধন আছে?” ভগবতী দেবী স্মিতমুখে উত্তর করিলেন, “বাবা, চারি ঘড়া ধন আছে।” সাহেব বলিলেন—“আপনার এত ধন আছে?” ভগবতী তখন সহাস্য বদনে জ্যেষ্ঠ পুত্র বিদ্যাসাগর মহাশয় ও অপর তিনটী পুত্রের প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ করিয়া বলিলেন—“এই আমার চারি ঘড়া ধন।” সাহেব বিস্মিত হইয়া বিদ্যাসাগর ও উপস্থিত জন সমূহকে বলিলেন,—“ইনি দ্বিতীয় রোমীয় রমণী কর্ণিলিয়া।”

 তৎপরে ভগবতী দেবী হারিসন্ সাহেবকে বলিলেন, “দেখ বাবা, তুমি অতি দায়িত্বপূর্ণ কার্য্যের ভার লইয়া এই জেলার আসিয়াছ। দেখিও যেন গরীব দুঃখীর অনিষ্ট না হয়। তুমি এরূপ ভাবে কার্য করিবে যে, তুমি এ জেলা পরিত্যাগ করিয়া চলিয়া গেলেও যেন লোকে তোমার জন্য ‘হায়’ ‘হায়’ করে।” সাহেব ভগবতীর কথা শুনিয়া অত্যন্ত