সন্তুষ্ট হইলেন। এবং বিদ্যাসাগর মহাশয়কে বলিলেন, “এমন মা না হইলে, আপনি ঐরূপ হইতে পারিতেন না। মাতার গুণেই আপনি স্বভাবতঃ উন্নতমনা হইয়াছেন।”
তৎপরে সাহেব বিদ্যাসাগর মহাশয়ের বসতবাটীর চতুর্দিক পরিভ্রমণ করিয়া দেখিলেন। এবং সকল স্থানই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন দেখিয়া বলিলেন, “আমি অনেক বাটীতে পদার্পণ করিয়াছি, কিন্তু এরূপ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন গৃহ আমার কুত্রাপি নয়নগোচর হয় নাই। জানিলাম, আপনার মাতৃদেবী অশেষ গুণান্বিত। ইহার তুলনা নাই।”
হারিসন্ সাহেব এক সময়ে কোন কার্য্যোপলক্ষে বিদ্যাসাগর মহাশয়কে পত্র লিখেন। তাহাতে তিনি একস্থানে উল্লেখ করিয়াছিলেন, “আপনার জননীর উপদেশানুযায়ী আমি কর্তব্য সম্পাদন করিতে সতত যত্নবান্ আছি। তাঁহাকে বলিবেন যে, তাঁহার মুখনিঃসৃত অনুশাসনরূপ অমৃতময় রচনাবলী সতত আমার কর্ণে ধ্বনিত হইয়া আমাকে সৎকার্য্যে প্রণোদিত করিতেছে।”
ভগবতী দেবী সৌজন্য ও সদ্ব্যবহার গুণে যে কেবল বীরসিংহ ও নিকটবর্ত্তী গ্রামের অধিবাসিবৃন্দের ও আত্মীয় স্বজনের প্রীতি উৎপাদন করিয়াছিলেন, এরূপ নহে। তাঁহার সৌজন্য ও সদ্ব্যবহার গুণে একজন বিদেশী, ভিন্ন ধর্ম্মাক্রান্ত, উচ্চ রাজকর্মচারী কিরূপ মুগ্ধ হইয়াছিলেন, পাঠকগণ, উপলব্ধি করিয়া দেখুন, উল্লিখিত দৃষ্টান্তই তাহার জ্বলন্ত সাক্ষ্য প্রদান করিতেছে কি না!