টাকা আদায়ের পরিবর্তে গৃহে গৃহে নিমন্ত্রণ করিয়া অবশেষে স্বীয় ভবনে প্রত্যাগত হইতেন। বাটীর সকলের আহার শেষ হইলে, যদি কোন অধমর্ণ আহার করিতে আসিত, ভগবতী দেবী তাহাকে দেখিবামাত্র জিব কাটিয়া বলিতেন, “তাই ত বাবা, আমার মনে ছিল না। একটুখানি বস, আমি আবার ভাত রাঁধিয়া দিতেছি।” এই কথা বলিয়া দয়াশীলা ভগবতী দেবী তৎক্ষণাৎ আহারাদি প্রস্তুত করিয়া দিতেন।
এক সময়ে বিদ্যাসাগর মহাশয় কলিকাতা হইতে কয়েকথানি লেপ প্রস্তুত করাইয়া দেশে পাঠাইয়া দেন। গ্রামের কয়েকজন দরিদ্র ব্যক্তি শীতে অতি কষ্টে নিশাযাপন করে শ্রবণ করিয়া ভগবতী ঐ লেপ কয়েকখানি তাহাদিগকে দান করেন। পরিশেষে বিদ্যাসাগর মহাশয়কে পত্র লিখিলেন, “তুমি যে কয়েকখানি লেপ পাঠাইয়া দিয়াছ, তাহা গ্রামের কয়েকজন দরিদ্র ব্যক্তিকে দিয়াছি। আমাদের জন্য কয়েকখানি কম্বল শীঘ্র পাঠাইয়া দিবে।” এই কথা শুনিয়া বিদ্যাসাগর বাটীর জন্য আবার কয়েকখানি লেপ প্রস্তুত করাইয়া পাঠাইয়া দিলেন। এবং মাতাকে লিথিলেন, “ঐরূপ বিতরণের জন্য আপনার আর যে কয়েকখানি লেপের প্রয়োজন আমাকে সত্বর লিখিবেন, আমি এখান হইতে পাঠাইয়া দিব।” এইরূপে ভগবতী দেবীর দয়া ও পরোপকার প্রবৃত্তি পর্য্যালোচনা করিলে মনে হয়, তিনি পরের উপকারের জন্যই জন্মিয়াছিলেন, এবং পরের উপকার করিয়াই আপনার জন্ম সার্থক করিয়াছিলেন।