করিতে পারি না। যদি কেহ আমার এক হস্তে সূর্য্য ও অপর ইস্তে চন্দ্র প্রদান করিতে পারে, তথাপি আমার বিশ্বাস বিনষ্ট করিতে পারিব না। অন্তরের বিশ্বাসমত কার্য্য করিব, ইহাতে জীবন যায়, তজ্জন্য কিছুমাত্র দুঃখিত হইব না।”
এক সময়ে খৃষ্টধর্ম্মসংস্কারক লুথারকে তাঁহার বন্ধুরা বলিয়াছিলেন, “লুথার! সাবধান হও, দেশমধ্যে অধিকাংশ লোকেই তোমার শত্রু; অতএব, যদি বাঁচিতে সাধ থাকে, তবে ধর্মসংস্কার ত্যাগ করিয়া, স্বীয় জীবন রক্ষা কর।” এই কথা শ্রবণ করিয়া লুথার গম্ভীরভাবে উত্তর করিলেন, “যাহা আমার হৃদয়ের দৃঢ় বিশ্বাস, আমি সরল মনে তাহাই প্রচার করিতেছি। আমি আমার কর্তব্যপথে বিচরণ করিতেছি, ইহাতে যদি এই মহানগরের যাবতীয় ইষ্টকরাশি আমার মস্তকে বর্ষিত হয়, তাহাতেও আমি কর্ত্তব্যকর্ম্ম হইতে বিমুখ হইব না। আমার অদৃষ্টে যাহাই ঘটুক না কেন, আমি সরলতা-ক্ষেত্র পরিত্যাগ করিয়া কখন কণ্টকাকীর্ণ কপটতা-পথে পদার্পণ করিব না।”
ফলতঃ সরলতা ও পবিত্রতা সাধু হৃদয়ের অলঙ্কার। যাহার চরিত্র পবিত্র ও নিষ্কলঙ্ক, তাঁহার অন্তর বিমল চন্দ্র কিরণের ন্যায় সুস্নিগ্ধ ও আনন্দপূর্ণ। সূর্য্য যেমন পৃথিবীর অন্ধকার দূরীভূত করিয়া চতুর্দিক দিব্যালোকে আলোকিত করে, সরল ও পবিত্রহৃদয় সাধু মহাপুরুষগণও সেইরূপ পৃথিবীর পাপাচার বিনাশ করিয়া ধর্ম্মের বিমল ও পবিত্র জ্যোতিতে বসুন্ধরাকে উদ্ভাসিত করেন। সরল হৃদয় মহাজন জগতের বিশ্বাস, ভক্তি ও সম্মানের পাত্র।
ভগবতী দেবী সরলতা ও পবিত্রতাগুণে ঐ প্রদেশের সকলেরই আন্ত