রিক শ্রদ্ধা ও সম্মান লাভ করিয়াছিলেন। তিনি মনের বিশ্বাস মত কার্য্য করিতেন। অন্তঃকরণের ভাব গোপন করিয়া কোনরূপ অন্যায় আচরণ করা তাঁহার প্রকৃতিবিরুদ্ধ ছিল। ফলতঃ তিনি প্রাণান্তেও অন্তরে এক প্রকার এবং কার্য্যে অন্যপ্রকার ব্যবহার করিয়া লোকের নিকট ঘৃণিত হইতেন না। অথবা অন্যের মনস্তুষ্টির জন্য ভীত হইয়া, বিশ্বাসের বিপরীত কার্য্য করিয়া কপটতাচরণ করিতেন না। যাহা সত্য বলিয়া হৃদয়ঙ্গম করিতে পারিতেন, প্রাণাত্তেও কার্য্যকালে তাহার অন্যথাচরণ করিতেন না। তিনি প্রায়ই বলিতেন, “সংসারের পথ অতি সরল, লোকে বুদ্ধির দোষে ইহাকে কুটিল করিয়া ফেলে। তুমি যাহা ফলভোগ কর, তাহার জন্য তুমিই দায়ী। তুমি দিবারাত্রি নিজে তোমার যত অনিষ্ট সাধন কর, আর কাহারও নিকট কখনও তত অনিষ্টের আশঙ্কা করিও না।” আমরা এস্থলে ভগবতী দেবীর সরলতা, পবিত্রতা ও সাধুতা গুণের একটা জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত লিপিবদ্ধ করিয়া এই অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি করিব।
বীরসিংহ গ্রামে বাম্ণী পুষ্করিণী নামে এক জলাশয় আছে। একদিন ভগবতী দেবী তথায় স্নান করিতেছেন, এমন সময়ে এক বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ স্নানার্থ সেইখানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ব্রাহ্মণের হস্তে একটী পুটিকা ছিল। ব্রাহ্মণ সেই পুটিকা হইতে একখানি শুষ্ক বস্ত্র বাহির করিয়া পুটিকাটী পুষ্করিণীর ধারে একটা ঝোপের মধ্যে রাখিয়া স্নানার্থ পুষ্করিণীতে অবতরণ করিলেন। স্নানান্তে ব্রাহ্মণ শুষ্ক বস্ত্র পরিধান ও গামছা দ্বারা মস্তক আবৃত করিয়া সন্ধ্যাহ্নিক করিতে করিতে দ্রুতপদে চলিয়া গেলেন। তিনি পুটিকার কথা একেবারে বিস্তৃত হইয়া গিয়াছিলেন। ভগবতী দেবী স্থানান্তে উপরে উঠিলে, ঘটনাক্রমে পুটিকার দিকে তাঁহার দৃষ্টি আকৃষ্ট