বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/১৫৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৪২
ভগবতীদেবী।

হইল। ভগবতী দেবী মনে করিলেন, ঐ ব্রাহ্মণ নিশ্চয়ই ভ্রমক্রমে ইহা রাখিয়া গিয়াছেন। তিনি পুটিকা খুলিয়া দেখিলেন, কয়েকখানি নূতন বস্ত্র, কর্ণের দুইখানি স্বর্ণালঙ্কার ও চল্লিশটী মুদ্রা রহিয়াছে। ভগবতী দেবী মহাবিপদে পড়িলেন। তিনি সমস্ত দিন সেই পুটিকাটী রুক্ষা করিয়া সেইখানে বসিয়া রহিলেন। সন্ধ্যার কিঞ্চিৎ পূর্ব্বে ব্রাহ্মণ ক্রন্দন করিতে করিতে শশব্যস্তে তথায় আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ভগবতী দেবীকে দেখিয়া বলিলেন, “মা আমার সর্ব্বনাশ হইয়াছে! আমি কন্যাদায়গ্রস্ত। রাত্রি প্রভাতে কন্যার বিবাহ। আমি মধ্যাহ্নে এই পুষ্করিণীতে স্নান করিতে আসিয়াছিলাম। আমার নিকট একটা পুটিকা ছিল। ভিক্ষা করিয়া যাহা কিছু সংগ্রহ করিয়াছিলাম, তাহা ঐ পুটিকাভ্যন্তরেই ছিল। মা, এখন আমার উপায় কি?” ভগবতী দেবী ব্রাহ্মণকে প্রবোধ দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “পুটিকাতে আপনার কি কি দ্রব্য ছিল?” ব্রাহ্মণ সত্য কথা বলিলেন।

 ভগবতী দেবী বলিলেন, “আপনি যে কন্যাদায়গ্রস্ত তাহা আমি পূর্ব্বেই জানিতে পারিয়াছি। কারণ, তাহা না হইলো আপনার এতদূর চিত্তভ্রম ঘটিবে কেন? তৎপরে পুটিকাটী ব্রাহ্মণের হস্তে দিয়া বলিলেন, “দেখুন আপনার সমস্ত দ্রব্য আছে কি না? আমি তদবধি এই পুটিকা রক্ষা করিয়া এইখানেই বসিয়া আছি। যাহা হউক আপনি আমাকে নিশ্চিন্ত করিলেন।” ব্রাহ্মণ আনন্দাশ্রু ত্যাগ করিতে করিতে বলিলেন, “মা, তুমি আমার জাত কুল রক্ষা করিলে। মা, আমি এখনও জল গ্রহণ করি নাই। আমি অভীষ্ট দেবতার নিকট প্রার্থনা করিতেছি, তুমি যেন ধনে বংশে শ্রীবৃদ্ধি লাভ কর।” ব্রাহ্মণ তখনও পর্যন্ত জলগ্রহণ করেন