ব্যয়ের কারণ হয়, অর্থাৎ তাহারা আপনাদিগের অমূল্য জীবন বৃথাই নষ্ট করে।
পথিক যেমন দেশপর্য্যটনকালে, বিশ্রামস্থান বা পান্থনিবাস পাইবার আশায়, জনপ্রাণিশূন্য প্রান্তর দ্রুতবেগে অতিক্রম করিয়া যায়, মানবগণ সেইরূপ সুখ বা লাভের কামনায়, সময়ের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ এবং পরিশেষে বর্ষ পর্যন্ত্য অবলীলাক্রমে বৃথা যাপন করে। জীবৎকালের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশগুলি নষ্ট করিয়া দীর্ঘ জীবন কামনা করা এবং সময় হারাইয়া কার্য্যের অনুষ্ঠান করা, উভয়ই তুল্যরূপ নির্ব্বুদ্ধিতা ও অপরিণামদর্শিতার কার্য্য।
এই বিশ্বসংসারে মানবজাতির যত প্রকার কর্তব্য কার্য্য আছে, তন্মধ্যে নিঃস্বার্থ পরোপকাররূপ পুণ্যকার্য্যই সর্ব্বশ্রেষ্ঠ। মানবসমাজে এতাদৃশ পুণ্যব্রতের কিছুমাত্র অভাব নাই। অজ্ঞানকে জ্ঞানদান, দরিদ্রের অভাববিমোচন, বিপন্নের বিপদুদ্ধার, শোকার্তের শোকাপনোদন, রুগ্নের শুশ্রূষা ইত্যাদি পবিত্র কর্ম্ম ভগবতী দেবীর জীবনে নিত্যই সংঘটিত হইত। পরস্পর-বিরুদ্ধ পক্ষের বিবাদভঞ্জনপূর্ব্বক তাহাদিগের মধ্যে সৌহার্দস্বাপন, চরিত্রবান্ লোকের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, মাৎসর্য্যশালীর বিদ্বেষভাব সংযমনের চেষ্টা, কোপন ব্যক্তির ক্রোধোপশমন, এবং কুসংস্কারাপন্ন লোকের মতসংশোধন ইত্যাদি নানাবিধ সৎকার্য্যে সময়ক্ষেপ করিয়া মনে মনে অপরিসীম আনন্দ উপভোগ করিবার সুবিধা তাঁহার জীবনে প্রায় সর্ব্বদাই উপস্থিত হইত। এই সমস্ত সামাজিক পুণ্যকার্য্যের অনুস্থানে যিনি কালযাপন করেন, তাঁহার সময় কি কখন অলসভাবে অতিবাহিত হইতে পারে?