দুঃখকেই রক্ষাকর্তার চরণে সমর্পণ করিয়া স্বয়ং নির্ব্বিঘ্নে ও সুখশান্তিতে কালাতিপাত করিতে থাকেন। এই দুস্তর জীবন-সমুদ্রের প্রভঞ্জনোত্থিত ফেনিল তরঙ্গের ঘাত প্রতিঘাত কেবল গভীরতাবিহীন অসার সংসারেই দেখিতে পাওয়া যায়। কিন্তু যাঁহারা মৌক্তিকপ্রসূ শুক্তির ন্যায় তাহার তলদেশে বসিয়া স্বীয় হৃদয়োপরি পরম রমণীয় দুর্লভ মুক্তার নির্মাণে সচেষ্ট, তাঁহাদিগকে সেই ঊর্মিমালার ভীম প্রকম্পন স্পর্শও করিতে পারে না। জ্ঞানের গভীরতা, হৃদয়ের পূর্ণতা সমাজের ঘূর্ণাবর্ত্তে সম্পাদিত হওয়া অসম্ভব; তজ্জন্য নিস্তব্ধ শান্তি-আবাসে ধীর চিন্তা প্রবাহের প্রয়োজন।
ভগবতী দেবী দিবাভাগের কিয়দংশ এবং সন্ধ্যার সময় নিষ্ঠাবান হিন্দুর গৃহস্থোচিত পূজা, সন্ধ্যা বন্দনাদিতে অতিবাহিত করিতেন। যখন তিনি সেবাধর্মানুষ্ঠানে নিরত থাকিতেন, তখন তাঁহাকে দেখিলে মনে হইত, তিনি যেন আর ইহ-জগতের জীব নহেন। এই সময়ে তিনি একেবারে বাহ্যজ্ঞানশূন্য হইয়া যাইতেন। এবং যেন ভগবৎসেবা করিতেছেন এই ভাবে অনুপ্রাণিত হইয়া তিনি জীবসেবা করিতেন। এই সকল বিষয় পর্য্যালোচনা করিলে আমাদের মনে হয়, দিবাযামিনীর অধিকাংশ সময় তিনি নির্জনবাসজনিত শান্তি উপভোগ করিতে পারিতেন। তিনি এইরূপে সময়ের সদ্ব্যবহার করিয়াছিলেন বলিয়াই, অদ্যাপি বীরসিংহ ও তন্নিকটবর্ত্তী গ্রামসমূহের অধিবাসিবৃন্দের নিকট তাঁহার নামোচ্চারণ করিবামাত্র, তাঁহারা অশ্রুবিসর্জ্জন করিতে করিতে আবেগময়ী ভাষায় তাঁহার অশেষ গুণানুকীর্ত্তন করিয়া থাকেন। তিনি মরিয়াও অমরত্ব লাভ করিয়াছেন।