দেবীর জীবনে আমরা যে মহত্ত্বের পরিচয় পাই, তাহার মূলে কি পরিমাণে মিতাচার বিদ্যমান রহিয়াছে, তাহাই আমাদের বর্তমান অধ্যায়ের প্রধান আলোচ্য বিষয়।
ভগবতী দেবীর অন্নদান ব্যাপার তাঁহার নিত্য নৈমিত্তিক ক্রিয়ার মধ্যেই পরিগণিত হইয়াছিল। কিন্তু তিনি কখন ষোড়শোপচারে অন্নদানের ব্যবস্থা করিতে যত্নবর্তী হন নাই। তিনি যেন ইহা উপলব্ধি করিতে পারিয়াছিলেন যে, দশজনকে ষোড়শোপচারে ভোজন করান অপেক্ষা, সেই ব্যয়ে বিংশতি জনকে অন্নদান করিতে পারিলে, অন্নদানের সদ্ব্যবহার হইবে। সুতরাং সামান্য গৃহস্থ গৃহে যেরূপ আহারাদির ব্যবস্থা হওরা সম্ভব, তিনি কখনই তদতিরিক্ত আয়োজন করিতে প্রয়াস পান নাই।
মধ্যাহ্নে ও সায়াহ্নে প্রায় শতাধিক লোক গৃহে ভোজন করিত। ইহাদিগের আহার্য্য রন্ধন ও পরিবেশনাদি ব্যাপারে পাচকাদি নিয়োগ বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ বিরুদ্ধাচারিণী ছিলেন। তিনি মনে করিতেন, ঐরূপ ব্যবস্থা করিলে যে অর্থব্যয় হইবে, তদ্বারা তিনি আরও কয়েকজনকে অন্নদান করিতে পারিবেন। এইজন্য তিনি স্বয়ং রন্ধন ও পরিবেশনাদি করিতেন। পরিবারস্থ সকলে তাঁহার সাহায্য করিতেন মাত্র।
আপনার ও পরিবারস্থ জনগণের বিলাসিতা ও সুখস্বচ্ছন্দতার জন্য অধিক ব্যয় করা তাঁহার প্রকৃতিবিরুদ্ধ ছিল। তিনি তদ্বিনিময়ে অপরের সুখবিধান করিতে পারিলেই আপনাকে কৃতার্থ মনে করিতেন। তিনি স্বয়ং চরকায় সূতা কাটিয়া তদ্দ্বারা মোটা বস্ত্র প্রস্তুত করাইয়া পরিবারস্থ সকলের পরিধানের নিমিত্ত দিতেন। বিদ্যাসাগর মহাশয় কোন সময়ে