বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/১৬৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৫০
ভগবতীদেবী।

কলিকাতা হইতে সূক্ষ্ম বস্ত্র পাঠাইয়া দিলে, তিনি তাহা অপরকে বিতরণ করিতেন। আমরা পূর্ব্বেই উল্লেখ করিয়াছি, তিনি অলঙ্কারাদির সম্পূর্ণ বিরোধী ছিলেন। তিনি বলিতেন, “অলঙ্কারাদি ব্যবহার করিলে পরিবারস্থ স্ত্রীলোকদিগের মধ্যে বিলাসিতা বৃদ্ধি পাইবে, গৃহস্থালীতে তাহাদের আর সেরূপ মন থাকিবে না। বাটীতে দস্যু তস্করের ভয় হইবে। যে অর্থে অলঙ্কারাদি প্রস্তুত করাইব, সেই ব্যয়ে আমি দশজনকে অন্নদান করিতে পারিব।”

 “দ্রব্যের অপচয় সম্পত্তিসঞ্চয়ের বিরোধী, সকল দ্রব্য হইতেই কোন না কোন প্রয়োজন সাধিত হইতে পারে, এইজন্য তিনি অতি সামান্য দ্রব্যও সযত্নে রক্ষা করিতেন। গৃহসামগ্রী সকল বিশৃঙ্খল করিয়া রাখা সম্পত্তিরক্ষা ও সম্পত্তিবৃদ্ধির প্রতিকূল; গৃহ এবং গৃহস্থিত দ্রব্যাদি শীঘ্র বিনষ্ট হইতে দিলে সত্বরই ধনক্ষয় হয়, এইজন্য তিনি সর্ব্বাগ্রে গৃহের যাবতীয় বিষয়ের শৃঙ্খলা স্থাপন করিতেন”,— ভগবতী দেবীর পারিবারিক জীবনে এ কথা আমরা পূর্ব্বেই উল্লেখ করিয়াছি। ছিন্ন বস্ত্র, এক গাছি রজ্জু, ভগ্ন মৃন্ময় পাত্র, একগাছি তৃণ পর্যন্তও তিনি সযত্নে রক্ষা করিতেন। তিনি সর্ব্বদাই বলিতেন, “যাকে রাখ সেই রাখে”। ফলতঃ মিতাচারের এই নীতিসূত্র আমরা প্রত্যেক মহতী নারীর জীবনেই দেখিতে পাই। পুণ্যবতী, করুণার মূর্ত্তি, মহারাণী ভিক্টোরিয়ার জীবনেও আমরা এই নীতিসূত্রের পরিচয় প্রাপ্ত হইয়া থাকি। সামান্য দ্রব্যটী পর্য্যন্ত মহারাণী অতিশয় যত্ন সহকারে রক্ষা করিতেন। তাঁহার নিকট নানাস্থান হইতে নানাপ্রকার উপহার প্রেরিত হইত। ঐ সকল উপহার উৎকৃষ্ট ফিতা বা সূতা দ্বারা বাঁধা থাকিত। মহারাণী ঐ সকল ফিতা ও স্বতা যত্ন