করিয়া তুলিয়া রাখিতেন। তাঁহার পরলোক গমনের পর ঐ সকল সুতা ও ফিতার মূল্য ১১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা ধার্য্য হইয়াছিল। যাঁহার রাজ্যে কখন সূর্য্যাস্ত হয় না, সেই প্রবল প্রতাপান্বিতা, ইংলণ্ডের সৌভাগ্যলক্ষ্মী, রাজরাজেশ্বরী, পুণ্যশীলা ভিক্টোরিয়া যখন মিতাচারিণী ছিলেন, তখন আমাদের সামান্য গৃহস্থ গৃহে কিরূপ মিতাচার অবলম্বনের প্রয়োজন, পাঠকগণ, একবার ধীরচিত্তে এ বিষয়ে পর্যালোচনা করিবেন।
যে সকল বালক গৃহে ভোজন করিয়া বীরসিংহ বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করিত, তাহাদের ভোজনান্তে উচ্ছিষ্ট অন্ন পাত্রে পরিত্যক্ত থাকিত। ভগবতী দেবী কন্যাদিগকে সেই সকল উচ্ছিষ্ট অন্ন যত্ন সহকারে রক্ষা করিতে বলিতেন। এবং পরিশেষে তিনি পরম সন্তোষপূর্ব্বক সেই সকল অন্ন ভোজন করিতেন। এইরূপে অনেকদিন ঐ উচ্ছিষ্ট অন্ন দ্বারাই তাঁহার উদরপূর্ত্তি হইত। তাঁহার দেবী চরিত্রের আখ্যায়িকা যতই পর্য্যালোচনা করা যায়, ততই উপলব্ধি করা যায় যে, তাঁহার পরার্থে আত্মশাসন ও পরার্থে আত্মসুখ বিসর্জ্জনের মূলে মিতাচারই বিমান ছিল।