বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/১৬৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৫৩

লক্ষ্যে বাটী বাইবার জন্য তাঁহার প্রতি জননীর সনির্বন্ধ অনুরোধ ছিল। সেই সময়ে তিনি ফোর্ট উইলিয়ম কলেজে কর্ম্ম করিতেন। মাতৃ-আজ্ঞা পালন করিবার জন্য তিনি উপরিতন কর্মচারী মার্সেল সাহেবের নিকট ছুটির প্রার্থনা করিলেন। কিন্তু ছুটি পাইলেন না। ছুটি না পাইলে, মাতার আজ্ঞা লঙ্ঘন করা হইবে; এই দুঃখে মাতৃভক্ত বিদ্যাসাগর কিছুক্ষণ নীরবে রোদন করিলেন। পরে মাতার আজ্ঞা পালন করা কর্তব্য স্থির করিয়া, পদত্যাগপত্র হস্তে সাহেবের নিকট উপস্থিত হইলেন। সাহেব তদ্দর্শনে বিস্মিত হইয়া ছুটি দিতে আর দ্বিরুক্তি করিলেন না। ছুটি পাইয়া তদ্দণ্ডেই ভৃত্য সমভিব্যাহারে বিদ্যাসাগর গৃহাভিমুখে যাত্রা করিলেন। এদিকে ঘোর বর্ষাকাল। আকাশ ঘন ঘটায় আচ্ছন্ন, সম্মুখে উচ্ছলিত ভয়াবহ দামোদর নদ, পারের কোন উপায় নাই। কিন্তু দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মাতৃভক্ত ঈশ্বরচন্দ্র, জননীর চরণ স্মরণ করিয়া সেই প্রবল স্রোতোমালাবিশিষ্ট ভয়াবহ দামোদর নদ সন্তরণপূর্ব্বক পার হইলেন। পথে তাঁহাকে দারুকেশ্বর নদও এইরূপে উত্তীর্ণ হইতে হইয়াছিল। এবং আর্দ্রবস্ত্রে দৌড়িতে দৌড়িতে বাটী গিয়া উপস্থিত হইলেন। দেখিলেন, ভ্রাতা বিবাহ করিতে গিয়াছেন; তিনি বাটী যান নাই বলিয়া মাতৃদেবী গৃহদ্বার রুদ্ধ করিয়া ক্রন্দন করিতেছেন। গৃহপ্রাঙ্গণে দণ্ডায়মান হইয়া উচ্চৈঃস্বরে ‘ম’ ‘মা’ বলিয়া ডাকিতে লাগিলেন। পুত্রবৎসলা জননী তাঁহার কণ্ঠস্বর শ্রবণমাত্র শশব্যস্ত হইয়া বাহিরে আসিলেন। মাতা ও পুত্র উভয়ে উভয়কে তদবস্থ দেখিয়া এক সঙ্গে রোদন করিতে লাগিলেন। সে রোদনের আর নিবৃত্তি নাই! কি অপূর্ব্ব স্বৰ্গীয় দৃশ্য! কি অপূর্ব্ব সম্মিলন!