সমাজের প্রভূত কল্যাণসাধন করিতেন। তিনি লিখিয়াছেন:— “সচরাচর দেখিতে পাওয়া যায়, একান্নবর্ত্তী ভ্রাতাদের অধিক দিন পরস্পর সদ্ভাব থাকে না, যিনি সংসারে কর্ত্তৃত্ব করেন, তাঁহার পরিবার যেরূপ সুখে ও স্বচ্ছন্দে থাকেন, অন্য অন্য ভ্রাতাদের পরিবারের পক্ষে সেরূপ সুখে ও স্বচ্ছন্দে থাকা ঘটিয়া উঠে না। এজন্য অল্পদিনেই ভ্রাতাদের পরস্পর মনান্তর ঘটে; অবশেষে মুখ দেখাদেখি বন্ধ হইয়া পৃথক হইতে হয়। কিন্তু সৌজন্য ও মনুষ্যত্ব বিষয়ে চারি সহোদর সমান ছিলেন, এজন্য কেহ কখনও ইহাঁদের চারিজনের মধ্যে মনান্তর বা কথান্তর দেখিতে পান নাই। স্বীয় পরিবারের কথা দূরে থাকুক, ভগিনী ভাগিনেয়ী ও তাঁহাদের পুত্র কন্যাদের উপরও তাঁহাদের অণুমাত্র বিভিন্ন ভাব ছিল না। ভাগিনেয়ীরা পুত্র কন্যা সহ মাতুলালয়ে গিয়া যেরূপ সুখে সমাদরে কালযাপন করিতেন, কন্যারা পুত্র কন্যা লইয়া পিত্রালয়ে গিয়া সচরাচর সেরূপ সুখ ও সমাদর প্রাপ্ত হইতে পারেন না।”
“অতিথির সেবা ও অভ্যাগতের পরিচর্য্যা এই পরিবারে যেরূপ যত্ন ও শ্রদ্ধা সহকারে সম্পাদিত হইত, অন্যত্র প্রায় সেরূপ দেখিতে পাওয়া যায় না, বস্তুতঃ এই অঞ্চলের কোন পরিবার এ বিষয়ে এই পরিবারের ন্যায় প্রতিপত্তি লাভ করিতে পারেন নাই। ফলকথা এই, অন্নপ্রার্থনায় রাধামোহন বিদ্যাভূষণের দ্বারস্থ হইয়া কেহ কখনও প্রত্যাখ্যাত হইয়াছেন, ইহা কাহারও নেত্রগোচর বা কর্ণগোচর হয় নাই। আমি স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করিয়াছি যে অবস্থার লোক হউক, লোকের সঙ্খ্যা যাই হউক, বিদ্যাভূষণ মহাশয়ের আবাসে আসিয়া সকলেই পরম সমাদর, অতিথিসেবা ও অভ্যাগতপরিচর্য্যা প্রাপ্ত হইয়াছেন।”