লেন। তৎপরে মাতাপিতার আশীর্ব্বাদ গ্রহণ করিবার জন্য দেশে গমন করিলেন। ভগবতী দেবীর নিকট সমস্ত বিষয় নিবেদন করিলে, তিনি হৃষ্টচিত্তে উত্তর করিলেন, “বাবা, তুমি কি আমার যে সে ছেলে? তুমি এখন বিধবাবিবাহ শাস্ত্রসঙ্গত স্থির করিয়াছ, তখন আমি প্রসন্নমনে তোমাকে আশীর্ব্বাদ করিতেছি। আহা! যদি জন্মদুঃখিনীদের কোন গতি! করিতে পার, তাহা বাবা এখনই কর। কিন্তু বাবা, একবার কাজে হাত দিলে, তখন সমাজের ভয়ে, এমন কি আমি কি কর্তা বারণ করিলেও তুমি কোন মতে নিবৃত্ত হইবে না।”
তৎপরে বিদ্যাসাগর পিতাকে জিজ্ঞাসা করিলেও তিনি ঐরূপ উত্তরই দিয়াছিলেন। অধিকন্তু তিনি বলিয়াছিলেন, “কার্য্যে প্রবৃত্ত হইবার পূর্ব্বে তুমি আর একবার উত্তমরূপে শাস্ত্রীয় প্রমাণগুলি দেখিবে।”
মাতাপিতৃভক্ত সন্তান বিদ্যাসাগর মাতাপিতার আদেশ স্বীয় জীবনাপেক্ষাও অধিকতর মূল্যবান্ বলিয়া মনে করিতেন। দশের সমষ্টি লইয়া সমাজ, দশের কল্যাণের জন্য সন্তানকে প্রাণাপেক্ষা প্রিয়তর বস্তু বলি দিতে উপদেশ দেওয়া জগতে এক বিচিত্র ব্যাপার। ধন্য ভগবতী দেবী! ধন্য তোমার কর্ত্তব্যবুদ্ধি! ধন্য তোমার কর্তব্যশিক্ষা! একে বালবিধবাদিগের দুঃখে বিদ্যাসাগরের হৃদয় দগ্ধীভূত হইতেছিল, সেই দগ্ধহৃদয়ে মাতাপিতার আশীর্ব্বাদরূপ পূর্ণাহুতি প্রক্ষিপ্ত হওয়ায়, দ্বিগুণতর প্রজ্বলিত হইয়া উঠিল। কর্মবীর বিদ্যাসাগর কর্ত্তব্যবুদ্ধিরূপ অয়ুধে সন্নন্ধ হইয়া অপ্রতিহত গতিতে কর্মক্ষেত্রে অগ্রসর হইতে লাগিলেন, জগৎ তাঁহার প্রতিকূলে দণ্ডায়মান হইয়াও তাঁহাকে সঙ্কল্পচ্যুত করিতে পারে নাই। ফলতঃ কর্ত্তব্যবুদ্ধির কি মহীয়সী শক্তি! যে কর্ত্তব্যজ্ঞান প্রণোদিত হইয়া