ব্যক্তি, স্বতঃপ্রবৃত্ত হইয়া, বিদ্যাসাগরের অজ্ঞাতসারে, তাঁহার ঋণজালমোচনের জন্য, চাঁদা সংগ্রহ করিতে প্রবৃত্ত হন। কিন্তু বিদ্যাসাগর ইহা জানিতে পারিয়া, বলিলেন, “আমার ঋণ আমিই পরিশোধ করিব, তাহার জন্য অন্য কাহাকেও দায়ী করিতে চাহি না।”
এই বিধবা বিবাহ ব্যাপারে বিদ্যাসাগর মহাশয়কে যে কত নির্য্যাতন সহ করিতে হইয়াছিল, তাহার ইয়ত্তা নাই। তিনি সেই সকল নির্যাতন ধীর ভাবেই সহ করিয়াছিলেন। শিষ্টসমাজের বিরাগ বহন করা দৃঢ়চিত্ত ব্যক্তির পক্ষে সেরূপ কঠিন নহে। কারণ, উহাদিগের ক্রোধও কখন বিবেক বা ব্যবহার মর্য্যাদা অতিক্রম করে না; এবং দেশকালপাত্র বিবেচনায়, অন্যের উপর রোষপ্রকাশ করিতেও ভীত হয়। কিন্তু যখন শিষ্টজনের এই ভীরু কোপানলে, ইতর লোকের রোষোচ্ছ্বাস আসিয়া সম্মিলিত হয়, যখন মূর্খ ও ইতরজনের ক্রোধবহ্ণি উদ্দীপিত হয়, এবং সমাজতলস্থ অজ্ঞানান্ধ পশুপ্রকৃতি উত্তেজিত হইয়া ভীষণ গম্ভীরনাদ করিতে থাকে, তখন কেবল মহৎ ঔদার্য্য ও ধর্মপ্রাণতাই, দেবতার ন্যায়, উহার প্রতি অব্যাকুল দৃষ্টিপাত করিতে সমর্থ হয়, এবং উহাকে নিতান্ত তুচ্ছ জ্ঞান করিতে পারে!