হৃদয়ে অপরাধীর কল্যাণসাধনকামনার যাঁহারা দণ্ডবিধান করিতে পারেন, তাঁহারাই কেবল শাসন ও দণ্ডবিধানের অধিকারী। যে সকল ব্যক্তি ক্ষমাশীল ও সহিষ্ণু নহে, অপরকে শাসন করিবার অধিকার গ্রহণ করা তাহাদিগের পক্ষে ন্যায়সঙ্গত কি? মানবমাত্রেরই সহিষ্ণু ও ক্ষমাশীল হওয়া উচিত। ক্ষমাতে একদিকে যেমন হৃদয়ের উদারতা প্রকাশিত হয়, অপরদিকে তেমনই দয়া ও লোকানুরাগ প্রদর্শিত হইয়া থাকে। আমরা যদি ক্রমাগত আমাদিগের শত্রুগণের প্রতি ক্ষমা ও সহিষ্ণুতা প্রদর্শন করিতে থাকি, তাহা হইলে কোন না কোন দিন তাহাদিগের হৃদয় অনুরাগে আর্দ্র হইয়া পড়িবে। শত্রুবিজয়ের এরূপ সহজ ও সুন্দর পন্থা আর কুত্রাপি দৃষ্টিগোচর হয় না।
বিধবাবিবাহবিষয়ে গ্রামবাসিগণের মধ্যে যাঁহারা বিরোধী ছিলেন, তাঁহারা সুযোগ পাইলেই ঠাকুরদাসের উপর অত্যাচার করিতে কুণ্ঠিত হইতেন না। একদিন প্রাতে উঠিয়া ঠাকুরদাস ও ভগবতী দেখিতে পাইলেন, রজনীযোগে বিরুদ্ধবাদীরা কণ্টকবৃক্ষের শাখা প্রশাখা স্তূপাকার করিয়া তাঁহাদের দ্বারদেশ রুদ্ধ করিয়া গিয়াছে। অতি কষ্টে ঠাকুরদাস ও ভগবর্তী গমনাগমনের জন্য নীরবে পথ পরিষ্কার করিয়া লইলেন। একদিন প্রাতে উঠিয়া দেখিলেন, বিপক্ষ দলের লোকেরা কতকগুলি মৃত জীব জন্তু তাঁহাদের দ্বারদেশে নিক্ষিপ্ত করিয়া গিয়াছে। ঠাকুরদাস সেই সময়ে একখানি গৃহ নির্মাণের আয়োজন করিতেছিলেন। একদিন রজনীতে সুযোগক্রমে শত্রুপক্ষীয়েরা সেই গৃহের সমস্ত উপাদান অপহরণ করিয়া লইয়া গিয়াছিল। এইরূপে ঠাকুরদাস ও ভগবতী তাহাদিগের উৎপীড়নে ব্যতিব্যস্ত হইয়া উঠিলেন। এই সংবাদ বিদ্যাসাগর