মহাশয়ের শ্বশুর, ক্ষীরপাইনিবাসী শত্রুঘ্ন ভট্টাচার্য্য মহাশয়ের নিকট প্রেরিত হইলে, তিনি একদিন বীরসিংহে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। শত্রুঘ্ন ভট্টাচার্য্য অতিশয় তেজস্বী, ক্রোধী ও বলশালী ছিলেন। তৎকালে তাঁহার স্বীয় গ্রামে ও পার্শ্ববর্ত্তী গ্রামসমূহে তাঁহার বলবত্তার তুলনা ছিল না। অথচ তিনি সহৃদয়তা ও উদারতা গুণে সর্ব্বজনের ভক্তি ও প্রীতি আকর্ষণ করিয়াছিলেন। ভট্টাচার্য্য মহাশয়ের ভয়ে তৎকালে ঐ প্রদেশের দস্যু তস্করেরা সতত শঙ্কিত থাকিত। সেই সময়ে ঐ প্রদেশের কোন বলশালী সদেগাপ—এক দস্যুদল গঠন করিয়াছিল। তাহাদের অত্যাচারে লোকে সদা ভয়ে দিন যাপন করিত। একদিন শত্রুঘ্ন, জ্যেষ্ঠের অনুরোধে একাকী সেই দস্যুদলকে এমন শিক্ষা দিয়াছিলেন, যে তদবধি তাহারা আর নিকটবর্ত্তী গ্রামসমূহের উপর কোন প্রকার অত্যাচার করিত না। তাঁহার দৈহিক বলের জন্য ঐ প্রদেশের সকলে তাঁহাকে ‘কলির ভীম’ বলিত।
পরদিবস ভট্টাচার্য্য মহাশর বিরুদ্ধবাদীদিগকে ডাকাইয়া বলিলেন, “দেখ, যদি সকলে প্রাণের মায়া মমতা রাখ, তবে নিরস্ত হও। বৈবাহিক মহাশয় অতিশয় নিরীহ ও সদাশয় ব্যক্তি। ইহার দ্বারা তোমাদের কখনও কোন প্রকার অনিষ্ট সাধিত হয় নাই। ইনি সতত তোমাদের মঙ্গলচিন্তায় নিরত। ঈদৃশ হিতাকাঙ্খী নিরীহ গ্রামবাসীর উপর অত্যাচার করা লোকতঃ ধর্ম্মতঃ অতীব গর্হিত কার্য্য। তোমাদিগকে সাবধান করিয়া দিতেছি, অতঃপর আর ইঁহার উপর কোন প্রকার অত্যাচার করিও না। আর যাবৎ ইহার গৃহ নির্ম্মাণ না হয়, তাবৎ আমি বীরসিংহে অবস্থিতি করিব। আমার বল বিক্রমের কথা তোমাদের অবিদিত নাই। আমি