বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/১৭৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ক্ষমা ও সহিষ্ণুতা।
১৬৩

স্বগ্রামে প্রত্যাবর্তন করিয়া যদি শুনিতে পাই যে, তোমরা পূনরায় ইহার উপর কোন অত্যাচার করিয়াছ, তাহা হইলে আমি তোমাদিগকে এরূপ শিক্ষা দিব, যে সকলে বীরসিংহের পৈতৃক বাস্তু ত্যাগ করিয়া পলায়ন করিতে বাধ্য হইবে।” যাহা হউক ভট্টাচার্য্য মহাশয়ের তেজ ও সহৃদয়তা মিশ্রিত উক্তি শ্রবণে অতঃপর বিরুদ্ধবাদীরা ঠাকুরদাসের উপর অত্যাচার করিতে নিরস্ত হইয়াছিল।

 সেই সময়ে ঈশ্বরচন্দ্র ঘোষাল জাহানাবাদের ডেপুটী ম্যাজিষ্ট্রেট ছিলেন। বিদ্যাসাগর মহাশয় একসময় প্রসঙ্গক্রমে এই সকল অত্যাচারের কথা তাঁহার কর্ণগোচর করেন। ঘোষাল মহাশয় মফঃস্বল ভ্রমণ কালে একদিন ছদ্মবেশে বীরসিংহে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঠাকুরদাস পরম সমাদরে তাঁহার পরিচর্য্যা করিলেন। শেষে ঘোষাল মহাশয় বলিলেন, “আমি এখানে আসিয়াছি কেন কিছু কি জানিতে পারিয়াছেন?” ঠাকুরদাস বিস্মিত হইয়া বলিলেন, “না, আমিত তাহার কিছুই জানি না।” তখন ঘোষাল মহাশয় বলিলেন, “আমি বিদ্যাসাগর মহাশয়ের নিকট শুনিলাম যে, বিধবাবিবাহসম্বন্ধে বিরুদ্ধবাদীরা আপনার উপর অমানুষিক অত্যাচার করে! আপনি তাহাদের নাম বলুন। আমি শাসনের ব্যবস্থা করিব। ঠাকুরদাস বিষণ্ণবদনে বলিলেন, “ঈশ্বর ছেলেমানুষ, সে বিদেশে থাকে, দেশের কোন সংবাদ রাখে না। কাহার মুখে কি শুনিয়াছে, তাহাই আপনাকে বলিয়াছে। গ্রামের কাহারও সহিত আমার অসদ্ভাব নাই। তাহার কথা শুনিয়া নিরীহ গ্রামবাসীদিগকে শাসন করা আপনার ন্যায় বুদ্ধিমান ব্যক্তির কর্তব্য নহে।” ঘোষাল মহাশয় ঈযৎ হাস্ত করিয়া বলিলেন, “সমস্তই বুঝিলাম। আপনার ন্যায় পিতার ঔরসে