বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/১৭৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৬৪
ভগবতীদেবী।

জন্মগ্রহণ করিয়াছেন বলিয়াই—বিদ্যাসাগর দয়ার সাগর হইতে পারিয়াছেন। যাহা হউক, আপনি যদি প্রমাণ করিতে পারেন যে, গ্রামবাসী সকলে আপনার সহিত সদ্ভাবে আছে, তাহা হইলে আমি আর তাহাদের উপর কোন প্রকার উৎপীড়ন করিব না।”

 অতঃপর ঠাকুরদাস দ্রুতপদে অন্তঃপুরে প্রবেশ করিয়া ভগবতী দেবীকে বলিলেন, “মনসা, গ্রামের লোকেরা আমাদের উপরে অত্যাচার করে, হাকিম কাহার নিকট গুনিতে পাইয়াছেন।” ভগবতী দেবী এই কথা শুনিয়া অশ্রুপূর্ণলোচনে বলিতে লাগিলেন, “তাহা হইলে ত সর্ব্বনাশ উপস্থিত দেখিতে পাইতেছি। আহা! এখন লোকগুলিকে রক্ষা করিবার উপায় কি? হাকিম যখন জানিতে পারিয়াছেন, তখন ত আর উহাদের নিস্তার নাই। উহাদের উপর ভয়ানক অত্যাচার হইবে। উহারা যেন না বুঝিয়া আমাদের উপর অত্যাচার করে, কিন্তু আমরা উহাদের উপর অত্যাচার কিরূপ করিয়া দেখিব? এখন উপায় কি? তুমি হাকিমকে কি বলিলে?” তদুত্তরে ঠাকুরদাস বলিলেন, “মনসা, আমি হাকিমকে বুঝাইয়া দিয়াছি, গ্রামবাসী সকলের সহিত আমার সদ্ভাব আছে। এখন তুমি তাহাদিগের সকলকে একবার সাবধান করিয়া দিয়া আইস, তাহারা যেন সন্ধ্যার সময় আমাদের বাটীতে আসিয়া হাকিমের সহিত একবার সাক্ষাৎ করিয়া যায়।”

ভগবতী দেবী এই কথা শ্রবণ করিয়া দ্রুতপদে বিরুদ্ধবাদীদিগের প্রত্যেকের বাটীতে উপস্থিত হইয়া বলিলেন, “দেখ, হাকিম তোমাদের অত্যাচারের কথা কাহার নিকট শুনিয়া তদন্ত করিতে আসিয়াছেন। আমাদের নিকট তোমাদের নাম চাহিয়াছিল, কিন্তু আমরা দিই নাই!