অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ।
জীবসেবা ও বিশ্বপ্রেম।
প্রেমের প্রতাপ মনুষ্যপ্রকৃতির সর্ব্বত্রই সমান দুর্দ্ধর্ষ। প্রেমের সঞ্চার হইবামাত্র মনোভাব প্রশস্ত হয়। অশান্ত প্রকৃতিও মৃদুভাবধারণ করে এবং হীনমনা কাপুরুষও সাহসিকতা প্রাপ্ত হয়। অতিনীচ জঘন্য হৃদয়মধ্যেও শৌর্য্যাদি বীরগুণের এত প্রভূত সমাবেশ হইয়া পাকে যে, তদ্বারা প্রিয়জনের হিতসাধন ও সুখবিধানের আশা জন্মিলে সে সমস্ত জগৎকে তুচ্ছ করিয়া চলিতেও ভীত হয় না। প্রেমের প্রভাবে মানব যেন সম্যক রূপান্তরিত হইয়া অভিনব জীবন লাভ করে। তাহার ইন্দ্রিয়গণের নূতন শক্তির বিকাশ হয়। হৃদয়মধ্যে নবীন বাসনা প্রবলতর বেগে উদিত হয়; এবং ধর্ম্মের পবিত্র ভাব আসিয়া প্রবেশ করে। সে তখন কোন পরিবার বা সমাজের অন্তর্গত থাকে না। তখন তাহার স্বকীয় সত্ত্ববত্তা স্বতন্ত্র হইয়া দাঁড়ায়। বিশিষ্ট গুণসমূহের প্রতিকৃতিস্বরূপ সে তখন জগতের সম্মুখে দণ্ডায়মান এবং আত্মার সতেজকণ্ঠই সত্যের ধ্রুবস্বর মনে করিয়া পৃথিবীস্থ জীবসমূহের কল্যাণসাধনে আত্মসমর্পণ করে। এইখানেই বিশ্বপ্রেমের পরিচয়। এবং এইরূপে জীবসমূহের কল্যাণসাধনের নামই সেবাধর্ম্ম।