বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/১৮১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
জীবসেবা ও বিশ্বপ্রেম
১৬৭

 চৈতন্যদেব সনাতন প্রভুকে শিক্ষা দিয়াছিলেন:—

“জীবে দয়া নামে রুচি সাধুর সেবন।
এই তিন ধর্ম্ম ভিন্ন নাহি সনাতন।”

 উপনিষৎকারও কহিয়াছেন:—

“এতৎ ত্রয়ং শিক্ষে‍ দমং দানং দয়ামিতি।”

 দম, দান ও দয়া এই তিন যত্নতঃ শিক্ষা করিবে। চৈতন্য প্রভু যাহা শিক্ষা দিয়াছেন, তাহাই উপনিষৎকারেরও অনুশাসন। ফলতঃ জীবে দয়া নামে রুচি ও সাধুসেবা বিশ্বপ্রেমেরই উপাদান।

 মনুষ্যের নিজ আত্মার সমান প্রিয় বস্তু সংসারে আর দ্বিতীয় নাই। স্ত্রী, পুত্র, ধন, বন্ধু প্রভৃতি সমুদয়ই আত্মার প্রীতির জন্য। সুতরাং ‘আত্মবৎ সর্ব্বভূতেষু’ মানবের যখন এই জ্ঞান হয়, তখন মানব সর্ব্বভূতের কল্যাণ, আত্মকল্যাণ বলিয়া মনে করে এবং সর্ব্বভূতের সুখসাধন করিয়া আত্মসুখ লাভ করে। এই অবস্থায় মানবহৃদয়ে সেবাধর্ম জাগিয়া উঠে। পাঠকগণ, পূর্ব্ববর্ত্তী অধ্যায়সমূহে ভগবতী দেবীর সেবাধর্ম্ম ও বিশ্ব-প্রেমের আভাস প্রাপ্ত হইয়াছেন। এস্থলে আপনাদিগের অবগতির জন্য আরও কয়েকটী দৃষ্টান্ত লিপিবদ্ধ করিলাম।

 গ্রীষ্মাবকাশের পর বিদ্যাসাগর মহাশয়ের পুত্র নারায়ণচন্দ্র কলিকাতায় আসিবার সময় বাটীর কোন অভিভাবককে সঙ্গে না একাকী কখনই আসিতেন না। তিনি সচরাচর পিতামহ ঠাকুরদাসের সহিত আসিতেন। কখন কখন পিতামহীর সহিত আসিতেন, একবার পিতামহী ভগবতী দেবীর সহিত তিনি কলিকাতায় আসিতেছিলেন। তৎকালে বীরসিংহ হইতে কলিকাতায় আসিবার পথ সুগম ছিল না।