পিতামহীর সহিত আসিবার সময়ে তাঁহারা কোন গ্রামের নিকটবর্ত্তী হইয়া শুনিলেন যে জনৈক গৃহস্থের গৃহ হইতে হৃদয়বিদারক ক্রন্দনধ্বনি উত্থিত হইতেছে। ক্রন্দনধ্বনি শুনিয়া দয়া ও করুণার মূর্ত্তিমতী প্রতিকৃতি ভগবতী দেবী পৌত্র নারায়ণচন্দ্রকে বলিলেন, “দাঁড়াত; এ বাড়ীতে কেন কাঁদিতেছে একবার শুনিয়া আসি।” এই কথা বলিয়া ভগবতী দেবী বালক নারায়ণচন্দ্রকে তথায় সাবধানে থাকিতে বলিয়া সেই গৃহস্থের বাটীতে প্রবেশ করিলেন। বালক নারায়ণচন্দ্র কিয়ৎক্ষণ তাঁহার অপেক্ষায় সেই পথের ধারে বসিয়া রহিলেন। পিতামহীর বিলম্ব হইতেছে দেখিয়া কারণ জানিবার জন্য গৃহস্থের বাটীতে প্রবেশ করিয়া দেখিলেন, পিতামহী সেই অপরিচিত গৃহস্থের ক্রন্দনে যোগ দিয়াছেন। পৌত্র নারায়ণচন্দ্রকে যে দাঁড়াইয়া থাকিতে বলিয়া আসিয়াছেন, তাহাদের সহিত কাঁদিতে বসিয়া সে কথা ভুলিয়া গিয়াছেন। ধন্য বিশ্বপ্রেম! তুমিই মানুষকে আত্মহারা করিয়া পরসেবায় নিয়োজিত করিতে পার! তোমার অসীম প্রভাব!
এই প্রকার অপরিমেয় সেবা গুণেই তিনি বীরসিংহ ও তন্নিকটবর্ত্তী গ্রাম সমূহের আপামর সাধারণকে মুগ্ধ করিয়া রাখিয়াছিলেন। তিনি পরের বিপদকে আপনারই বিপন্ন বলিয়া মনে করিতেন। কেহ বিপদাপন্ন হইয়াছে, ইহা তাঁহার শ্রুতিগোচর হইবামাত্রই তিনি তৎক্ষণাৎ সেইখানে উপস্থিত হইতেন এবং তাহার বিপন্মোচনের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করিতেন। রোগার্ত্তের পার্শ্বে উপবেশন করিয়া তিনি জননীর ন্যায় তাহার শুশ্রূষা করিতেন। রোগীর মলমূত্র তিনি চন্দনবৎ জ্ঞান করিতেন। তিনি স্বহস্তে তাহা মুক্ত করিতেন, তাঁহার মনে কিছুমাত্র ঘৃণার উদ্রেক হইত না।