বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/১৮৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৭০
ভগবতীদেবী।

লোকসেবায় তাঁহার ভগবৎসেবায়ই যেন প্রতীতি জন্মিত। ধন্য ভগবতী দেবী! তোমার সমস্তই বিচিত্র লীলা!

 পথিপার্শ্বে কোন জীবজন্তুর মৃতদেহ দেখিলে, অশ্রুধারায় ভগবতী দেবীর বক্ষঃস্থল প্লাবিত হইত। গৃহপালিত কোন জীবজন্তু যন্ত্রণায় কাতর হইয়া পড়িয়াছে দেখিতে পাইলেই তিনি তাহার শুশ্রূষায় নিরত হইতেন। তিনি যখন শেষবার কাশীযাত্রা করেন, তথায় এক অশীতিপর বৃদ্ধা পীড়িতা হইয়াছেন এবং তাহার শুশ্রূষার কেহ নাই শ্রবণমাত্র ভগবতী দেবী তাঁহার নিকট উপস্থিত হইয়া তাঁহার সেবায় ব্যাপৃত হইলেন। তিনি স্বহস্তে ঐ বৃদ্ধার মলমূত্র পরিষ্কার করিতেছেন দেখিয়া বৃদ্ধা লজ্জিত হইতেছেন বুঝিতে পারিয়া ভগবতী দেবী বলিলেন, “আপনি লজ্জিত হইতেছেন কেন? আপনি আতুর, আপনার সেবা আর স্বয়ং অন্নপূর্ণার সেবায় প্রভেদ কি? ইহা ত মলমূত্র নহে, ইহা চন্দন! আমার মনে বিন্দুমাত্র ঘৃণার উদ্রেক হয় নাই।” বৃদ্ধা ভগবতী দেবীর এই কথা শ্রবণ করিয়া তাঁহার হৃদয়ের অন্তস্থলের আশীর্ব্বাদ তাঁহাকে জ্ঞাপন করিয়াছিলেন। পরে বৃদ্ধা সুস্থ হইলে, ভগবতী দেবী বিদ্যাসাগরকে বলিয়া তাঁহার ও অপর আরও দুই একটী বৃদ্ধার মাসহারার ব্যবস্থা করিয়া দিয়াছিলেন।

 বধূ ও কন্যাগণ বয়ঃপ্রাপ্ত হইলে,ভগবতী দেবী অধিকাংশ সময় লোকসেবায় অতিবাহিত করিতেন। তিনি দিবাভাগের সন্ধ্যা বন্দনাদি সমাপন ও কিঞ্চিৎ জলযোগ করিয়া প্রতিদিন বীরসিংহ ও তনিকটবর্ত্তী পল্লী সমূহের গৃহে গৃহে ভ্রমণ করিতেন। কাহারও মুখ বিষণ্ণ দেখিলে, তাঁহার হৃদয় বিদীর্ণ হইত! অপাঙ্গ ভেদ করিয়া অশ্রুধারা নিপতিত হইত। তিনি তৎক্ষণাৎ তাহাকে জিজ্ঞাসা করিতেন, “তোমার মুখ শুষ্ক কেন?