তোমার কি খাওয়া হয় নাই? তোমার কি অর্থকষ্ট হইয়াছে? এইরূপে তিনি গৃহে গৃহে সকলের অভাব জানিয়া তাহার প্রতিবিধান করিতেন। ইহাই তাঁহার নিত্য নৈমিত্তিক কার্য্য ছিল।
ভগবতী দেবী শেষবার যখন কাশীধামে গমন করেন, তখন তাঁহার মাসাধিক তথায় অবস্থিতি করিবার ব্যবস্থা হয়। এই কথা শ্রবণ করিয়া বীরসিংহ ও তন্নিকটবর্ত্তী গ্রামের অধিবাসিবৃন্দ শোকাকুল হইয়াছিলেন। তিনি দুঃস্থ লোকদিগের মাসাধিকের জন্য সমস্ত দ্রব্যের ব্যবস্থা করিয়া দিয়াছিলেন বটে, কিন্তু তিনি যখন কাশীধামে যাত্রা করিলেন, তখন আবাল বৃদ্ধ বনিতা এমন কি গৃহস্থের কুলবধূগণ পর্যন্তও কিরূপ ব্যাকুল ভাবে ক্রন্দন করিতে করিতে বীরসিংহের উপকণ্ঠস্থিত প্রান্তর পর্য্যন্ত তাঁহার অনুসরণ করিয়াছিলেন, সে দৃশ্য যিনি স্বচক্ষে দেখিয়াছেন, তিনিই উপলব্ধি করিতে পারিয়াছেন যে, বিশ্বপ্রেমের প্রতিদান এই বিশ্বেই রহিয়াছে! যিনি জগতের জন্য ক্রন্দন করেন, জগৎও তাঁহার জন্য ক্রন্দন করে! তাঁহার বিচ্ছেদ সহ্য করিতে পারে না!
সত্য সত্যই ভগবতী মা আনন্দময়ীরূপে বীরসিংহে বিরাজমান ছিলেন। লোকের মুখ শুষ্ক দেখিলে, তাঁহার হৃদয় বিগলিত হইত। নিরানন্দের ছায়া বিশ্ব হইতে বিলুপ্ত হউক! বিশ্ব আনন্দে ভাসমান হউক!—বিশ্ব হাস্যে উদ্ভাসিত হউক!—এ আকাঙ্ক্ষা বিশ্বমাতার হৃদয়েই সম্ভবে! ধন্য ভগবতী দেবী! ধন্য তোমার বিশ্বপ্রেম!—ধন্য তোমার জীবসেবা!