ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ।
চরিত্রমাহাত্ম্য।
চরিত্রই মানব জীবনের মুকুটস্বরূপ। বিদ্যাবল ও ধনবল অপেক্ষা চরিত্রবলই শ্রেষ্ঠ। চরিত্রবান্ ব্যক্তি নীচকুলোদ্ভব হইলেও চরিত্রগুণে উচ্চকুলমর্য্যাদা লাভ করিয়া থাকেন। তিনি সম্পদূবিহীন হইলেও লোকানুরাগরূপ অপার্থিব সম্পত্তি লাভ তাঁহারই ভাগ্যে ঘটে। ধন, মান অপেক্ষা চরিত্রের প্রাধান্যই অধিক।
লোকের প্রবৃত্তি, সংসর্গ ও ব্যবহার আলোচনা করিলে তাহার চরিত্র, নির্ণীত হয়। কোন্ ব্যক্তির চরিত্র কিরূপ, তাহা জানিতে হইলে তাহার কার্য্যকলাপের অনুসন্ধান প্রয়োজন। জনসমাজে উন্নতি লাভের যত উপায় আছে, বা থাকিতে পারে, চরিত্রবলই তন্মধ্যে প্রধান।
জ্ঞানই বল, ইহা চিরন্তন সত্য। কিন্তু জ্ঞানবল অপেক্ষা চরিত্রবলই শ্রেষ্ঠ। যাহার হৃদয় আছে, অথচ সহৃদয়তা নাই; প্রতিভা আছে, সরলতা নাই; কার্য্যনৈপুণ্য আছে অথচ সাধুতা নাই; তাহার ঈদৃশ হৃদয়, প্রতিভা ও কার্য্যনিপুণতা দ্বারা জনসমাজের কি ইষ্ট সাধিত হইতে পারে? যাঁহার চিত্তে সরলতা, ধর্ম্মে অনুরাগ, গুরুজনে ভক্তি, আচরণে বিনয়, পরনিন্দায় বিরক্তি, পরোপকারে প্রবৃত্তি, মিথ্যাচরণে অশ্রদ্ধা, সর্ব্বজনে সমভাব আছে, তিনিই সচ্চরিত্র। সচ্চরিত্রের প্রতি অনুরাগ ও অসচ্চরিত্রের প্রতি বিরাগ আমাদের স্বভাবসিদ্ধ ধর্ম্ম।