বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/১৮৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
চরিত্রমাহাত্ম্য।
১৭৩

 চরিত্রের পবিত্রতা রক্ষা করা মানবের অবশ্যকর্তব্য কর্ম্ম। সাধুজনপ্রশংসনীয় কার্য্যকে কর্ত্তব্যকর্ম্ম কহে। কর্ত্তব্যপালনেই চরিত্রের পবিত্রতা রক্ষিত হয়। কর্তব্যপালন করিতে হইলে, আত্মসংযমের প্রয়োজন, আত্মসংযম না থাকিলে লোক উচ্ছৃঙ্খল হইয়া থাকে; সুতরাং চরিত্রবান্ হইতে হইলে আত্মসংযম অভ্যাস করা উচিত। সত্যে অনুরাগ, ন্যায়পরতা ও অধ্যবসায় থাকিলে আত্মসংযম অভ্যস্ত হয়। অতএব চরিত্রগঠন করিতে হইলে সত্যের প্রতি অনুরাগের প্রয়োজন। সত্যে অনুরাগ থাকিলে, মনে কপটতা থাকিতে পারে না, মনে কপটতা না থাকিলে দুষ্কার্য্যেও প্রবৃত্তি হয় না।

 সচ্চরিত্রের মহত্ত্ব সর্ব্বাপেক্ষা অধিক। লোকে সদগুণের সমাদর করে, কিন্তু সাধুচরিত্রের পূজা করিয়া থাকে। চরিত্রবান্ ব্যক্তি যে কার্য্যেই প্রবৃত্ত হউন, তাহাতেই উন্নতিলাভ করিতে পারেন। সকলেই তাঁহার প্রতি বিশ্বাস ও সম্মান প্রদর্শন করিয়া থাকেন। যিনি প্রকৃত সুখে সুখী হইতে বাসনা করেন, তাঁহার চরিত্রের নির্মলতা রক্ষা করা আবশ্যক। কারণ, চরিত্রবান্ ব্যক্তিই আত্মপ্রসাদ লাভে সমর্থ হন। তাঁহার চিত্তে প্রীতি, সুখ ও শান্তি সদা বিরাজমান থাকে।

 ভগবতী দেবীর বিবিধ সদগুণের কথা আমরা পূর্ব্বেই উল্লেখ করিয়াছি। এবং ঐ সকল সদ্‌গুণের সমষ্টিই তাঁহার চরিত্র। কিন্তু তাঁহার সদ্‌গুণাবলীর মধ্যে এক একটা বিশেষ লক্ষণ আছে। সেইজন্য আমরা ‘চরিত্র মাহাত্ম্য’ নামে এই অধ্যায়ের অবতারণা করিলাম।

 ভগবতী দেবী দয়ার মূর্ত্তিমতী প্রতিকৃতি ছিলেন। তাঁহার এই দয়া ও পরোপকার প্রবৃত্তিই তাঁহাকে অমর করিয়া রাখিয়াছে। তাঁহার এই