পক্ষপাত দোষে অপবিত্র বা কলঙ্কিত হয় নাই। কিংবা দানে অহঙ্কার প্রকাশে তাঁহার আদৌ প্রবৃত্তি ছিল না। তিনি পরের উপকারের জন্যই জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন এবং পরের উপকার করিয়াই জীবৎকাল পর্যবসিত করিয়াছিলেন। তাঁহার চরিত্রের আর এক মাহাত্ম্য বিলাসিতার সহিত পরার্থপরতার বিষম দ্বন্দ্ব। তিনি বিলাসিতারূপ ব্যাধিকে পরিবার মধ্যে প্রবেশ লাভ করিতে দেন নাই। এবং বিলাসিতার স্থলে মিতাচারের প্রয়োগ দ্বারা পরার্থপরতা সাধন করিয়াছিলেন। তাঁহার চরিত্রের আর এক মাহাত্ম্য তিনি তাঁহার পূর্ব্বাপর অবস্থা স্মৃতিপথে জাগরূক রাখিতে পারিয়াছিলেন। তিনি বালিকা বধূ বেশেই শ্বশুর গৃহে আগমন করিয়াছিলেন এবং দরিদ্র সংসারেই প্রতিপালিত হইয়াছিলেন। কিন্তু সেই দরিদ্র অবস্থা তিনি চিরজীবন স্মৃতিপটে অঙ্কিত করিয়া রাখিয়াছিলেন। বিদ্যাসাগর মহাশয়ের উন্নতির সহিত ভাগ্যের যথেষ্ট পরিবর্তন ঘটিয়াছিল। কিন্তু সৌভাগ্যের পরাকাষ্ঠার সময়ে ও তাঁহার মানসিক অবস্থার পরিবর্ত্তন ঘটে নাই। তিনি দীনভাবে জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন এবং দীন ভাবেই ইহসংসার পরিত্যাগ করিয়াছিলেন। তাঁহার চরিত্রের আর এক মাহাত্ম্য—জীবনের দুর্দ্দিনে যাহা তাঁহার নিত্যসহচর ছিল, সুদিনেও তিনি তাহার নিত্য পূজা করিয়াছিলেন। চরকায় সূতা কাটিয়া সেই সূতা বিক্রয় দ্বারা তাঁহার শ্বশ্রূদেবী অতিকষ্টে সংসার যাত্রা নির্ব্বাহ করিতেন। আমরণ ভগবতী দেবী সেই চরকার নিত্যপূজা করিয়াছেন। বিদ্যাসাগর মহাশয়ের যখন একাদশ বৃহস্পতির অবস্থা, তখন পর্য্যন্তও রাত্রি দেড় ঘটিকার পর প্রায় দুই ঘণ্টা একাকিনী বসিয়া ভগবতী দেবী নিত্য চরকায় সূতা কাটিতেন। তাহাতে তিন
পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/১৮৯
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
চরিত্রমাহাত্ম্য।
১৭৫