তখন স্ত্রীশিক্ষার প্রচলন ছিল না। স্ত্রীলোকদিগকে শিক্ষা দিলে সমাজের অত্যন্ত অনিষ্ট হইবে, স্ত্রীলোকেরা স্বামীকে ভক্তি করিবে না, গৃহকর্ম্মে উপেক্ষা করিবে, স্ত্রীজনোচিত লজ্জা ও ধীরতায় জলাঞ্জলি দিয়া প্রগল্ভা ও অশান্তপ্রকৃতি হইবে, এইরূপ অনিষ্টপাতের সকলে আশঙ্কা করিতেন। দেশের স্ত্রীলোকগণ তাঁহাদের কর্ত্তব্য ও দায়িত্ব বুদ্ধিতে প্রবুদ্ধা হউন, তাঁহারা মাতৃস্থানীয়া,যাহাতে পূর্ব্বতন ঋষিপত্নীগণের দৃষ্টান্ত দর্শনে প্রতিভাশালিনী ও তত্ত্বদর্শিনী হইতে পারেন, যাহাতে তাঁহারা আধ্যাত্মিক জগতে মৈত্রেয়ী, গার্গী ও উভয় ভারতীর অনুসরণ করিতে পারেন, জ্ঞান-জগতে খনা ও লীলাবতীর সদৃশী হন, যাহাতে তাঁহারা বুঝিতে পারেন যে, পুরুষের ন্যায় তাঁহাদেরও অধ্যাত্মবিদ্যায় অধিকার আছে, তাঁহারাও বেদের অর্থবোধ ও মন্ত্র দর্শনে সমর্থা এবং তাঁহারা সেই সচ্চিদানন্দময়ীর শক্তির বিকাশমাত্র,—এই দৃঢ় আত্মপ্রত্যয় লাভ করিয়া নিজ নিজ চরিত্রবলে যাহাতে তাঁহারা তাঁহাদের সন্ততিগণের চরিত্রগঠনে সহায় হন, এরূপ ভাবে কোন অধীত বিদ্যা শিক্ষা দিবার প্রণালী তখন লোকচিন্তার অতীত ছিল। সুতরাং ভগবতী দেবীর ভাগ্যে বাল্যকালে এরূপ ভাবের কোন শিক্ষালাভ ঘটে নাই। কিন্তু তাঁহার মাতুলালয়ে আদর্শ হিন্দু পরিবারে প্রতিদিন যে ধর্ম্মকর্ম্মের অনুষ্ঠান দেখিতেন, তাঁহার সম্মুখে যে জ্বলন্ত আদর্শ বিদ্যমান ছিল, তদ্বারা তাঁহার যে কোন শিক্ষালাভ হয় নাই, এ কথা আমরা স্বীকার করিতে পারি না। কারণ, ইন্দ্রিয়, মস্তিষ্ক ও হৃদয়ের পূর্ণতা লাভই যথার্থ শিক্ষা; চক্ষুঃ কর্ণাদি ইন্দ্রিয়গণের উপযুক্ত ব্যবহার ও বিষয়পরিচালনাই যথার্থ শিক্ষা। ইন্দ্রিয়গণ যথাযথ সংযত হইলে, উহাদের দ্বারা সূক্ষ্ম বিষয়ের
পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/১৯
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৮
ভগবতীদেবী।