বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/১৯০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৭৬
ভগবতীদেবী।

কিছুমাত্র অপমান বোধ করিতেন না। হারিসন্‌ সাহেব যখন বীরসিংহের বাটীতে আগমন করেন, তখন ঐ চরকা দেখিয়া সাহেব শম্ভুবাবুকে জিজ্ঞানা করিয়াছিলেন, “এটা কি?” শম্ভু বাবু তাহার কোন সদুত্তর না দিয়া বিষয়ান্তরে সাহেবের চিত্ত আকৃষ্ট করিয়াছিলেন। পরিশেষে সাহেব প্রস্থান করিলে, শম্ভু বাবু ক্রোধপরবশ হইয়া সেই চরকা ভাঙ্গিয়া ফেলেন। ভগবতী দেবী তাঁহার এই ব্যবহারে এতদূর দুঃখিত হইয়াছিলেন যে তিনি একদিন অন্নজল পরিত্যাগ করিয়াছিলেন। পরিশেষে শম্ভু বাবু চরকা নির্ম্মাণ করিয়া দিলে, তিনি অন্নজল গ্রহণ করিয়াছিলেন। আমরা মহাত্মা রামদুলাল সরকারের চরিত্রেও এইরূপ মাহাত্ম্য দেখিতে পাই। রামদুলাল হাটখোলা দত্তবাটীর সরকার ছিলেন। পরিশেষে তাঁহার সাধুতার পুরস্কার স্বরূপ মদনমোহন দত্ত তাঁহাকে লক্ষ টাকা প্রদান করেন। যখন রামদুলাল অতুল ঐশ্বর্য্যের অধিপতি তখনও তিনি দত্তগৃহে মাসিক বেতন দশ টাকা স্বয়ং আনিতে যাইতেন। এবং মদনমোহন দত্তের সম্মুখে যাইবার সময় পাদুকা পরিত্যাগ করিরা করযোড়ে তাঁহার সম্মুখে দণ্ডায়মান থাকিতেন।

 অহঙ্কার ভগবতী দেবীর হৃদয় স্পর্শ করিতে পারে নাই। ধনমদে তাঁহাকে গর্ব্বিত করিতে পারে নাই। দয়া তাঁহার প্রকৃতিসিদ্ধ ধর্ম ছিল। অনুগতপ্রতিপালন ও আশ্রিতবাৎসল্য, তাহার স্বভাবকে মধুময় করিয়াছিল।

 তাঁহার চরিত্রের আর এক মাহাত্ম্য, তাঁহার প্রফুল্লচিত্ততা। ফলতঃ প্রফুল্লচিত্ততা সূর্য্যালোকস্বরূপ। এই আলোক দ্বারা চিত্তক্ষেত্র উদ্দীপ্ত হইলে, আমরা মানব জীবন যেরূপ সার্থকতার সহিত উপভোগ করিতে