বিংশ পরিচ্ছেদ।
মৃত্যু।
কবি মৃত্যুকে ‘শয়ন-সুন্দর’ বলিয়াছেন! ফলতঃ দুর্জ্জয় জীবনসংগ্রামে শ্রান্তমানব যখন অশ্রুপূর্ণ নয়নে, বেদনা-বিবশ হৃদয়ে ক্ষণিক বিশ্রামলাভের আকাঙ্ক্ষা করে, তখন মৃত্যুই তাহার নিকট মধুর বলিয়া প্রতীয়মান হয়! কিন্তু সে তখন উপলব্ধি করিতে পারে না যে, ইহা বিশ্রান নহে!—চিরনিদ্রা! আর যখন জীব মায়ামুক্ত হয়, তখন এই অনিত্য দেহ-পিঞ্জর আর তাহার তৃপ্তিসাধন করিতে পারে না!—সে তখন মুক্তপক্ষ বিহঙ্গমের ন্যায় ঊর্দ্ধ বিমানে উঠিতে চাহে! তখন সেই মায়াযুক্ত জীব তারস্বরে বলে,—
“ওহে মৃত্যু! তুমি মোরে কি দেখাও ভয়?
ও ভয়ে কম্পিত নয় আমার হৃদয়।
সংসারের প্রেমে মন মত্ত নয় যার
অভঙ্গে তোমার বল কিবা ভয় তার?
যে অম্লান কুসুমের মধুপান তরে,
লোলুপ নিয়ত মম মন মধুকরে,
যে নিত্য উদ্যানে সেই পুষ্প বিরাজিত,
হে মৃত্যু! তাহার তুমি শরণি নিশ্চিত।”
মৃত্যু তাহার নিকট বিশ্বের পরপারে যাইবার সেতু!