মৃত্যু!—এ নাম শ্রবণ করিলে, সহসা হৃদয়ে ভীষণ আতঙ্কেরই উদ্রেক হয়। কিন্তু মৃত্যু যতই আমাদের অপ্রিয় হউক না কেন, ইহারই জন্য আমরা জীবনে সুখের আস্বাদ প্রাপ্ত হই। অদূরে প্রচণ্ড মার্ত্তণ্ডতাপ রহিয়াছে বলিয়াই স্নিগ্ধ বৃক্ষচ্ছায়া বা সুকোমল তৃণশয্যা আমাদিগের নিকট সুখদায়ক। অন্ধতমসাচ্ছন্ন রজনীতে গৃহমধ্যে নির্ব্বাণোন্মুখ কম্পমান সামান্য দীপশিখাও আমাদিগের নিকট স্নিগ্ধ বোধ হয়। মৃত্যু আছে বলিয়াই যশোগৌরবে বিমণ্ডিত হইবার আমাদিগের এতদূর আকাঙ্ক্ষা! বিজয়মাল্যে বিভূষিত হইবার এরূপ ঐকান্তিকী ইচ্ছা! মৃত্যু আছে বলিয়াই অমরত্ব লাভের জন্য আমাদিগের এরূপ প্রয়াস! বিসর্জ্জন আছে বলিয়াই আবাহনের প্রভাতী সঙ্গীত এরূপ শ্রুতিসুখকর! মৃত্যুর সহিত জড়িত বলিয়াই আমাদিগের নিকট জীবন এত প্রিয়! জীবিত থাকিবার জন্য আমাদিগের এত প্রয়াস! —এত বাঞ্ছা! এত আয়োজন!
১২৭৭ সালের ফাল্গুন মাসের প্রথম দিবস কাশীধাম হইতে সংবাদ আসিল ঠাকুরদাসের জীবন সঙ্কটাপন্ন। সংবাদপ্রাপ্তিমাত্রই বিদ্যাসাগর সর্ব্বকর্ম্ম পরিত্যাগ করিয়া পিতৃপদসেবার নিমিত্ত কাশীযাত্রা করিলেন। এদিকে দীনবন্ধু ও শম্ভুচন্দ্র ভগবতী দেবীকে সমভিব্যাহারে লইয়া কাশীধামে গমন করিলেন। রীতিমত সেবা শুশ্রূষা ও ঔষধাদির সুব্যবস্থায় ঠাকুরদাস শীঘ্রই আরোগ্য লাভ করিলেন। ১৫ই ফাল্গুন বিদ্যাসাগর, জননী ও সহোদরদিগকে পিতৃপরিচর্য্যার নিমিত্ত নিযুক্ত রাখিয়া কলিকাতায় প্রত্যাগমন করিলেন। ভগবতী দেবী ফাল্গুন, চৈত্র দুই মাস কাশীবাস করেন।
ক্রমে চৈত্রসংক্রান্তি সমাগত হইল। কাশীধামে সে দিন মহোৎ