বাদ্যধ্বনিতে মুখরিত ও স্পন্দিত হইতে লাগিল। পুনরায় হোমগন্ধে চতুর্দিক আমোদিত হইয়া উঠিল। পুনরায় ‘হর', ‘হর', ‘বম্’, ‘বম্’ ধ্বনিতে চতুর্দিক বিকম্পিত হইল!—এ সমস্ত কি কাশীধামের বিশ্বেশ্বর ও মহামারার পূজার আয়োজন? না,—সাধ্বী সতী ভগবতীর স্বর্গারোহণের আবাহন! সাধু পাঠকগণ! সাধ্বী পাঠিকাগণ! হৃদয় থাকে ও একবার উপলব্ধি করুন,—উপলব্ধি করিয়া নীরবে অশ্রুবিসর্জ্জন করুন। কারণ, সংসারে স্বর্গ, নরক বলিয়া কিছুই জানি না—এই মৃত্যুতেই স্বর্গ নরকের পরিচয়! পাপী, তাপী বলিয়া কিছুই জানি না, এই মৃত্যুতেই তাহার পরিচয়! সরল, কপটাচারী বলিয়া কিছুই জানি না, এই মৃত্যুতেই সে সকলের পরিচয়! সেইজন্য মৃত্যুই সাধুদিগের উপাস্য! তাঁহারা প্রেমভরে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করিয়া থাকেন! এই মৃত্যুই বিশুদ্ধ পবিত্র বহ্ণি!—ইহাই মানবাত্মাকে বিশ্বের পরপারে লইয়া যাইবার সময় পরিশুদ্ধ করে!
ক্রমে মৃত্যু সন্নিকট দেখিয়া সকলে ক্রন্দন করিতে লাগিলেন! ভগবতী সকলকে ক্ষীণস্বরে সুমিষ্টবাক্যে সান্ত্বনা করিয়া, পরিশেষে পতির পদধূলি চাহিলেন। শান্ত, দাস্ত, ধৈর্য্যশীল ঠাকুরদাস এতক্ষণ পর্য্যন্ত স্থিরভাবে ছিলেন। কিন্তু এইবার তাঁহার ধৈর্য্যচুতি হইল। আর তিনি শোকাবেগ সংবরণ করিতে পারিলেন না। গণ্ডস্থল বহিয়া প্রবল বেগে অশ্রুধারা নিপতিত হইতে লাগিল। ক্রন্দন করিতে করিতে ঠাকুরদাস গদগদস্বরে বলিতে লাগিলেন, “তুমি সাধ্বী সতী! তোমাকে আমি আর কি আশীর্ব্বাদ করিব! তুমি নিজ পুণ্যবলে অগ্রেই গমন করিলে। তোমারই জন্ম হইল! তুমি যে সদা সর্ব্বদা বলিতে,—‘জপ তপ কর, কিন্তু মর্তে