বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/১৯৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

একবিংশ পরিচ্ছেদ।


চিতাভস্ম।

 শ্মশান!—তুমি মানবের শেষ সদগতি-স্থল!—তুমি মহাপবিত্র পুণ্য তীর্থক্ষেত্র!—তোমার এখানে পণ্ডিত, মূর্খ, ধনী, নির্ধন, সুন্দর, কুৎসিত, মহৎ, ক্ষুদ্র—সংসারের এই ভেদজ্ঞান নাই!—তোমার এখানে স্বাভাবিক, কৃত্রিম; নৈসর্গিক, অনৈসর্গিক; পার্থিব, অপার্থিব;—এ সকল বৈষম্য নাই!—এমন সাম্যস্থান জগতে ত অন্বেষণ করিয়া পাই না!—সেইজন্য মনে হয়, শ্মশান!— তুমি মহাপবিত্র পুণ্যতীর্থক্ষেত্র! তোমার এখানে আসিলে, মনুষ্যজীবনের অসারতা উপলব্ধি হয়,— আত্মাভিমান সঙ্কুচিত হয়,—স্বার্থপরতা দূরে পলায়ন করে,—অশান্ত মানব ক্ষণেকের জন্য শান্ত মূর্ত্তি ধারণ করে!—সেইজন্য মনে হয়, শ্মশান!—তুমি মহাপবিত্র পুণ্যতীর্থক্ষেত্র! তোমার এখানে আসিলে, —মনে ঘোরতর বৈরাগ্যের উদ্রেক হয়! —কুলের অহঙ্কার, শীলের অহঙ্কার, সৌন্দর্য্যের অহঙ্কার, বিদ্যার অহঙ্কার, ধর্ম্মের অহঙ্কার, প্রভুত্বের অহঙ্কার,—সকল অহঙ্কারই চূর্ণীকৃত হয়! —সকল অহঙ্কারই তোমার বক্ষে পড়িয়া চিতাভস্মেপরিণত হয়!—সেইজন্য মনে হয়, শ্মশান!—তুমি মহাপবিত্র পুণ্যতীর্থক্ষেত্র!