অনুভূতি হয়, মন ও বুদ্ধির স্ফুরণ হয় ও চিত্তের উদারতা সম্পাদিত হয়। মাতুলালয়ে আদর্শ হিন্দুপরিবারের মধ্যে লালিত পালিত হওয়ায়, কিরূপ করিয়া ধর্ম্মকর্ম্মের অনুষ্ঠান করিতে হয়, লোকের কল্যাণচিন্তা করিতে হয়, কিরূপ করিয়া লোকের সহিত ব্যবহার করিতে হয়, কেমন করিয়া দেখিতে হয়, বলিতে হয়, চলিতে হয়, বসিতে হয় প্রভৃতি অশেষ কল্যাণকর অত্যাবশ্যক শিক্ষালাভ ভগবতী দেবীর বাল্যকালেই পূর্ণমাত্রায় হইয়াছিল। সুশীলতা, ভব্যতা, ঔদার্য্য, বিনয়, শিষ্টাচার ও সৌজন্য প্রভৃতি সদগুণ যে সামাজিক বন্ধনের প্রধান উপায়, এ শিক্ষার বীজ তাঁহার বাল্যহৃদয়েই অঙ্কুরিত হইয়াছিল।
আলস্য ও জড়তা তাঁহার দেহে কখনও স্থান পায় নাই। তিনি প্রত্যূষে শয্যা পরিত্যাগ করিয়া প্রাতঃকৃত্য সমাপন করিতেন। পুষ্পচয়ন, পুষ্পপাত্রসম্মার্জ্জন, ও বিবিধ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গৃহকর্ম্মে তিনি অনুক্ষণ লিপ্ত থাকিতেন। এ সম্বন্ধে কেহ কখন তাঁহাকে শ্রমবিমুখ হইতে দেখে নাই। তিনি শ্রমেই শান্তিলাভ করিতেন, এবং শ্রমেই বিশ্রামসুখ অনুভব করিতেন। আমরা এ স্থলে তাঁহার শৈশব—জীবনের দুই একটী ঘটনার উল্লেখ করিয়া এই অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি করিব।
মহাপুরুষ বা নারীরত্নরূপে যাহারা জন্মপরিগ্রহ করেন, তাঁহাদিগের সহিত সাধারণ মনুষ্যের প্রভেদ এই দেখিতে পাই যে, তাঁহারা যাহা বলেন, তাহা করিতে পারেন ও করেন। তাঁহাদের উক্তিই তাঁহাদের যথার্থ জীবনী। সাধারণ মানব বহু শাস্ত্রাদি অধ্যয়ন করিয়া অনেক সারবান্ উপদেশ দিতে পারেন, কিন্তু সেগুলি স্বীয় জীবনে প্রতিফলিত করিতে পারেন না। মহাপুরুষ জগতের কল্যাণসাধনে সতত সচেষ্ট।