বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/২১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১০
ভগবতীদেবী।

তিনি মানবজাতির উন্নতির নূতন নূতন পথের আবিষ্কার করেন; সাধারণ মানবের ন্যায় তিনি সুখ দুঃখ বা হাস্যক্রন্দনের মধ্য দিয়া স্বীয় বহুমূল্য জীবন অতিবাহিত করেন না। জীবনের প্রথম অংশেই আত্মীয়স্বজনের দুঃখ ও অভাব দর্শনে তিনি বিমর্ষান্বিত হন ও জগতেরও এই প্রকার অবস্থা কি না জানিবার জন্য চঞ্চল হইয়া উঠেন। তাঁহার বিশাল হৃদয়, বিশালতর হইয়া ক্রমে সমগ্র জগৎ ব্যাপিয়া যায়,— কোন বিশেষ কেন্দ্রে আবদ্ধ থাকিতে পারে না। এক কথায় তিনি জগৎকে আপনার হৃদয় দিয়া ভালবাসেন, আপনার বলিতে জগৎ ভিন্ন তাঁহার অপর কিছু থাকে না।

 ভগবতী দেবীর মাতুলালয়ের গ্রামে ক্ষত্রিয়, রাজপুত, কায়স্থ, নাপিত প্রভৃতি অনেক ব্রাহ্মণেতর জাতির বাস ছিল। তাঁহার মাতুলালয়ের সন্নিকটে অনেক দরিদ্র তেওর ও বাগ্দী বাস করিত। ভগবতী বাল্যকালে এই সকল জাতীয় সমবয়স্কা বালিকাদিগের সহিত ক্রীড়া করিতেন। ক্রীড়ার মধ্যে তাঁহার এক বিশেষত্ব এই দেখিতে পাওয়া যায় যে, এই সকল সমবয়স্কা বালিকারা তাঁহাকে ক্রীড়া করিবার জন্য আহ্বান করিলে, তিনি বলিতেন, “তোমরা সকলে আমাদের বাটীতে এস, আমরা এক সঙ্গে খেলা করিব।” এই সকল বালিকাদিগের প্রত্যেকের সহিত মকর, সই প্রভৃতি মৈত্রীবন্ধনে তিনি আবদ্ধ হইয়াছিলেন। তাঁহার কি এক আশ্চর্য্য শক্তি ছিল, তাঁহার ভালবাসার কি এক অদ্ভুত প্রগাঢ়তা ছিল যে, যে তাঁহার সংস্পর্শে আসিত তিনি তাহাকে আপনার করিয়া ফেলিতেন। এই সকল সমবয়স্কা বালিকারা তাঁহার এতদূর বাধ্য ও অনুগত হইয়াছিল যে, ক্ষণকালের জন্য তাঁহার অদর্শন তাহারা সহ্য