করিতে পারিত না। তিনি তাহাদিগকে লইয়া ধূলাখেলা করিতেন না। কারণ,বালিকারা সাধারণতঃ যেরূপ ধূলাখেলা করে, সেরূপ ক্রীড়ায় তাঁহার মন ছিল না। তিনি তাহাদিগের সহিত ব্রতকথা বলিতেন, মাতামহীর নিকট যে সকল উপদেশপূর্ণ গল্প বা পৌরাণিক আখ্যায়িকা শ্রবণ করিতেন, সেই সমুদয় গল্পচ্ছলে বলিতেন। তাহাদের অভাব অভিযোগ মন দিয়া শুনিতেন এবং অভাবনিরাকরণের যথাসাধ্য চেষ্টা করিতেন। তাহাদের মধ্যে কাহারও কাহারও বেশবিন্যাস করিয়া দিতেন। এ বিষয়ে তিওর, বাগ্দী প্রভৃতি জাতিবিচার তাঁহার ছিল না। ঐ সকল সমবয়স্কা বালিকারা খেলা করিবার জন্য একত্র হইলে, কখন কখন তিনি তাহাদিগকে সুমিষ্ট খাদ্য দ্রব্য ভোজন করাইয়া পরম তৃপ্তিলাভ করিতেন। সময়ে সময়ে তিনি তাহাদিগের কোন অমঙ্গল সংবাদ বা দুঃখকাহিনী শ্রবণ করিয়া এরূপ আত্মহারা হইয়া পড়িতেন, তাঁহার হৃদয় এরূপ বিগলিত হইত যে, তাঁহার রক্তোৎপলনিভ গণ্ডস্থল বহিয়া প্রবলবেগে অশ্রুধারা নিপতিত হইত। সঙ্গিনীদিগের মধ্যে কেহ পীড়িতা হইলে, তিনি স্বতঃপ্রবৃত্ত হইয়া জাতিধর্ম্মনির্বিশেষে তাহার পরিচর্য্যা করিতেন। ইহাতে তিনি সুখ ও আনন্দ অনুভব করিতেন। তাঁহার এই সকল বাল্যলীলা পর্য্যালোচনা করিলে মনে হয়, তিনি শৈশবকাল হইতেই সেবাধর্ম্ম গ্রহণ করিয়াছিলেন। শৈশবেই যেন তিনি বুঝিয়াছিলেন, এই সেবাধর্ম্মই প্রকৃত হিন্দুধর্ম্ম। মনুষ্য মাত্রেই পরমাত্মার মুর্ত্তিস্বরূপ; ব্রহ্মের বিকাশই মানুষ। এই মনুষ্যের সেবাই হিন্দুর পরম ধর্ম্ম। প্রকৃত বৈদান্তিক সমস্ত বস্তুতেই ব্রহ্মদর্শন করেন, সেই ব্রহ্মের সেবার নিমিত্ত নরসেবায় নিযুক্ত থাকেন, আমরা সেই
পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/২২
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
জন্ম ও বাল্যজীবন।
১১