বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/২৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১২
ভগবতীদেবী।

ব্রহ্মের স্বরূপ জানিয়া যদি প্রত্যেক মানবের সেবায় নিযুক্ত থাকি, তাহা হইলে মুসলমান, বৌদ্ধ প্রভৃতি পার্থক্য কোথায় থাকিবে? সেই সেবায় মুগ্ধ হইবে না এমন মানবদেহধারী কে থাকিতে পারে? অহিন্দু বলিয়া ঘৃণা করিলে পার্থক্য জন্মিবে, কিন্তু সেবাধর্ম্মে পার্থক্য কোথায়? এই সেবাধর্ম্মে ঘৃণা বিদ্বেষ তিরোহিত হইবে। যিনি সেবাধর্ম্ম গ্রহণ করিবেন, তিনি বুঝিতে পারিবেন যে, তিনি মনুষ্য—ব্রহ্ম তাঁহাতে বিরাজমান; সেই ব্রহ্ম প্রত্যক্ষ করিয়া অপরের সেবা করিবেন ও সেবা দ্বারা সেই সেব্য ব্যক্তিরও ব্রহ্ম উদ্দীপিত হইবেন।

 বাল্যকাল হইতেই ভগবতী দেবী মিতাচারিণী ছিলেন। সামান্য পদার্থকেও তিনি তুচ্ছ জ্ঞান করিতেন না। এবং সেই সকল দ্রব্যের তিনি সদ্ব্যবহার করিতেন। বাল্য জীবনেই যেন তিনি বুঝিতে পারিয়াছিলেন, ক্ষুদ্র ও বৃহৎ লইয়াই এই সংসার। যেন তিনি প্রাণে প্রাণে বুঝিতে পারিয়াছিলেন,—নিখিল বিশ্বব্রহ্মাণ্ড যাঁহার সম্পদ, অনন্ত হইতে অনন্ত যাঁহার সঞ্চয়, একটী শুল্ক পত্র, চ্যুত পুষ্প, বিন্দুমাত্র জল, অথবা কণাপরিমাণ মৃত্তিকা যখন তাঁহার নিকট তুচ্ছ নহে এবং তিনি এই সকল বস্তুর মিতব্যয়ের বিধান করিয়া রাখিয়াছেন, তখন আমরা ক্ষুদ্রাদপি ক্ষুদ্র মানব কোন্ সাহসে ও কি অহঙ্কারে সামান্য বস্তুকে তুচ্ছ জ্ঞান করিয়া তাঁহার উচ্চ দানের অবমাননা করিব! এই মহান্ ভাব তাঁহার বালিকাহৃদয়ে উদ্দীপিত হইয়াছিল বলিয়াই বোধ হয়, তিনি সামান্য ভগ্ন মৃন্ময় পাত্রটী পর্য্যন্ত ফেলিয়া দিতে গেলে, বাধা দিয়া কাড়িয়া লইতেন এবং যত্ন করিয়া তুলিয়া রাখিতেন, বিশ্বাস ইহা দ্বারা জগতের কোন মঙ্গল কার্য্য সাধিত হইবে।