বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/২৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৪
ভগবতীদেবী।

 দীনতা ভক্তিসাধনার প্রধান অঙ্গ; অথবা দীনতা ভক্তিসাধনার পরিপক্ব ফল। দীন ভক্ত যে ঈশ্বরানুগৃহীত, তাহার পর্য্যাপ্ত প্রমাণ এই যে, জীবমাত্রই তাঁহার প্রতি প্রগাঢ় প্রেম প্রকাশ করে। দীন ভক্তের পদচালনে পৃথিবী পবিত্রা হয়, সাধারণ স্থল মহাতীর্থে পরিণত হয়, তাঁহার সঙ্গিগণ নবজীবন প্রাপ্ত হয়। বায়ু মণ্ডলের কুভাব তরঙ্গ প্রশমিত করিয়া তিনি শান্তির মৃদুমন্দ সমীরণ প্রবাহিত করেন। তাঁহার চিত্তাকর্ষক চরিত্রে জীবমাত্রই বশীভূত হইয়া পড়ে। তাঁহার সকলের প্রতি সমদৃষ্টিতে, তাঁহার চরিত্রের মধুরতায়, তাঁহার মিষ্টবাক্যে ও বিনয়নম্র দৃষ্টিতে কুপথগামী জনগণ নবজীবন প্রাপ্ত হইয়া থাকে।

 ভগবতী দেবীর বাল্যজীবনে তেজস্বিতারও বিশেষ পরিচয় পাওয়া যায়। দীনতার সহিত তেজস্বিতার সম্মিলন মণিকাঞ্চনসংযোগবৎ তাঁহার বালিকা-হৃদয়ে পরম রমণীয় ভাব ধারণ করিয়াছিল। তাঁহার মাতুলালয়ের সন্নিকটে যে সকল দরিদ্র তেওর ও বাগদীরা বাস করিত, তাহাদিগকে মধ্যে মধ্যে তিনি তণ্ডুলাদি আহার্য্য দ্রব্য এবং বস্ত্রাদি বিতরণ করিতেন। পাছে, ইহা দেখিয়া পরিবারবর্গের মধ্যে কেহ অসন্তুষ্ট হন, এই ভয়ে তাঁহার মাতা এক সময়ে তাঁহাকে নিষেধ করিয়াছিলেন। তদুত্তরে ভগবতী দেবী বলিলেন, “মামা কখন ইহাতে রাগ করিবেন না। যদি রাগ করেন,তাঁহাকে একটী চরকা নির্ম্মাণ করিয়া দিতে বলিব। সেই চরকায় সূতা কাটিব এবং সূতা বিক্রয় করিয়া যে পয়সা পাইব, তদ্বারা তণ্ডুল ও বস্ত্রাদি ক্রয় করিয়া উহাদিগকে বিতরণ করিব”। “ক্রমে এই কথা রাধামোহন বিদ্যাভূষণ মহাশয়ের কর্ণগোচর হয়। তিনি এই কথা শুনিয়া পরম আনন্দিত হইলেন। তিনি তাঁহার এই বালিকা ভাগিনেয়ীর