কার্য্যকলাপে কি যেন এক স্বর্গীয় ভাব দেখিতে পাইতেন। তিনি এই কথা শুনিয়া ভগবতী দেবীকে ক্রোড়ে করিয়া মুখচুম্বন করিতে করিতে বলিতে লাগিলেন—“মা, আমার সাক্ষাৎ অন্নপূর্ণা! মা তোমার যত ইচ্ছা তুমি গরিবকে দান করিও। যদি তোমাকে কেহ কিছু বলে, তুমি বলিও এ দান তোমাদের জন্য তোলা রহিল। গরিবকে এক গুণ দিলে ভগবান্ দশ গুণ দিবেন। গরিবকে দান করিলে কি কখন অপব্যয় করা হয়?” শাস্ত্রে আছে,—
“দাতব্যমিতি যদ্দানং দীয়তেহনুপকারিণে।
দেশে কালে চ পাত্রে চ তদ্দানং সাত্ত্বিকং স্ম্বতম্॥”
দান করিতে হইবে, ইহা মনে করিয়া দেশকালপাত্র বিবেচনায়, অপকারীকেও যে দান করা যায়, তাহাকে সাত্ত্বিক দান কহে। দানের জন্য অহঙ্কার প্রকাশে ভগবতী দেবীর আদৌ প্রবৃত্তি ছিল না। তিনি সুনামের জন্য কখন দান করিতেন না। দরিদ্রের সেবা এবং রুগ্নের শুশ্রূষা আজীবন তাঁহার নিষ্কামপ্রসূতা নিত্যক্রিয়া ছিল।
আহা! এরূপ শিক্ষা দীক্ষার কথা মনে করিলে আনন্দাশ্রুসংবরণ করিতে পারা যায় না। সে কালের এক একটা একান্নবর্ত্তী পরিবার কি শান্তিনিকেতনই ছিল,কি পুণ্যের প্রস্রবণই সেখান হইতে প্রবাহিত হইত! ভগবতী দেবী, তুমিই ধন্য, যে এরূপ পুণ্যাশ্রম মাতুলালয়ে তুমি বাল্যকালে লালিত পালিত হইয়াছিলে। এরূপ মাতুলালয়ে তোমার বাল্যজীবন অতিবাহিত হইয়াছিল। এই আদর্শ হিন্দু গৃহের ক্রিয়াকলাপ, রীতিনীতি, ভাবভক্তি তোমার চরিত্রগঠনের প্রধানতম উপাদান হইয়াছিল। এবং উত্তরকালে তোমার গর্ভে বঙ্গের যে বিরাট্ মহাপুরুষ জন্মগ্রহণ